সাঁথিয়ায় পেঁয়াজের দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৮

উজ্জ্বল হোসেন, সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা

পেঁয়াজ ঘরে তুলতে শুরু করে দিয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার কৃষকরা। তবে বাজার দর কম হওয়ায় পেঁয়াজ চাষিরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। পাবনার সাঁথিয়া কৃষি অফিস ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলায় ১৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি বছর এ উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ ও উত্পাদন ১ হাজার হেক্টর বেশি হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিল ও মাঠে ব্যাপক পেঁয়াজের আবাদ করে কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটছে পেঁয়াজের জমিতে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে ভোরবেলা থেকে মাঠে উপস্থিত থাকছেন কৃষকরা।

অক্টোবরে সাঁথিয়ার কৃষকরা পেঁয়াজের বীজতলা তৈরি করে থাকে। জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় তারা কাদা মাটির ওপর ছাই ব্যবহার করে বীজতলা করেন। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তারা পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেন।

উপজেলা বিষ্ণুপুর গ্রামের আলাই, রাজু আহম্মদ জানান, এ বছর পেঁয়াজের দানা ৭ হাজার টাকা হওয়ায় অনেকেই বীজতলা তৈরি করতে পারে নাই। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করতে প্রায় ১২ হাজার টাকার বীজ লাগছে। এক বিঘা জমির লীজ বাবদ মালিককে ১৫/২০ হাজার টাকা দিতে হয়। সার, শ্রমিকসহ অন্য খরচসহ প্রায় বিঘায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সে তুলনায় পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রয় হচ্ছে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায়।

এদিকে, উপজেলার ধনী শ্রেণির কৃষকরা জমির পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করছে বেশি দামের আশায়। তবে ক্ষুদ্র কৃষকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে হাটে পেঁয়াজ বিক্রয় করতে হচ্ছে। এতে করে তারা কম দাম পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন।

বিষ্ণুবাড়িয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি ইদ্রিস আলী জানান, এত খরচের পরও পেঁয়াজের বাজার এ বছর কম থাকায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সরকার পেঁয়াজের বাজার আমাদের অনুকূলে না রাখলে কৃষকরা এ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী জানান, চলতি বছর জমিতে পেঁয়াজের বাম্পার উত্পাদন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সাধ্যমতো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের ঘরে উঠবে পেঁয়াজ।