স্পোর্টস রিপোর্টার
নেপালের ত্রিদেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ খেলোয়াড়কে মাঠে নামাননি দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। ফাইনালে ট্রফি জয়ের প্রবল সম্ভাবনা থাকার পরও জেমি কী কারণে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ ফুটবলারকে একাদশের বাইরে বেঞ্চে বসিয়ে রাখলেন তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি বাফুফে। গতকাল জেমিকে তলব করা হয়েছিল। সেখানে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন কি কারণে ফাইনালে এমন দশা হলো।
নিউজিল্যান্ডে বাংলার ক্রিকেটাররা লজ্জা দিচ্ছিল। আর তখন নেপালে বাংলাদেশ ফুটবল দল ফাইনালে উঠল। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের খেলা প্রিয় মানুষকে ট্রফি উপহার দেওয়ার বিরাট একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু জেমি নেপালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন একটি একাদশ নামিয়েছিলেন যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ ফুটবলারকে বাইরে দেখা গেল।
ক্লাব ফুটবলে টুটুল হোসেন বাদশা, সোহেল রানা, মাসুক মিয়া জনি, বিপলু আহমেদ, সুফিল ঢাকার মাঠের যোদ্ধা। তাদের ছাড়া ক্লাব ফুটবল একাদশ সাজাতে কষ্ট হয়। জাতীয় দলের আগের খেলাগুলোতে মাসুক মিয়া জনিকে না পেয়ে জেমি কত আফসোসই না করেছেন। সেই জনিকে ফাইনালে নামাননি কোচ। সোহেল রানা নেপালে প্রথম খেলায় ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় হলেন তাকেও ফাইনালে নামাননি কোচ। যারা বড় ম্যাচে চাপ নিতে পারে তাদের নামাননি তিনি।
জাতীয় দলে খেলেননি এমন একাধিক ফুটবলারকে দশরথের মাঠে নেপালের বিপক্ষে ১৫ হাজার দর্শকের সামনে নামিয়ে দিলেন জেমি, কোন সাহসে। বাংলাদেশের মানুষের আশাভরসা নিয়ে ছেলেখেলা করলেন জেমি।
ফাইনালে বাংলাদেশ দল মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলল। কি কারণে ? ১৮ মিনিটে ১-০, ৪২ মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে যায় জেমির দল। সাইড বেঞ্চে বসে অসহাত্ব দেখা ছাড়া ওদের কিছুই করার ছিল না। কোচ যখন এই পাঁচ ফুটবলারকে মাঠে নামিয়েছেন ততক্ষণে ম্যাচ হাতছাড়া। তার পরও ৮৩ মিনিটে সুফিলের গোল ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল যদি সময় থাকত।
জেমি হাতে ধরে ফাইনালটা হারিয়েছেন। বাংলাদেশের ফুটবলের বুকে ছুরি মেরেছেন। বাফুফে জেমির ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট হলেই বা কি আসে যায়। সর্বনাশ যা করার করে দিয়েছেন কোচ। অথচ এই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে একটা দারুন উপহার দিতে পারত ফুটবল। সেই সুযোগটি নিতে পারেনি ফুটবল। অন্য কোনো দেশ হলে নেপাল হতেই কোচকে বিদায়পত্র ধরিয়ে দেয়া হতো। কেন পারল না বাফুফে সেটাই এখন জনমনের প্রশ্ন।
