বাবার বিরুদ্ধে মায়ের হত্যার সাক্ষী হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে মিতুমনি নামের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। ঐ ঘটনায় মামলা করে আতঙ্কে রয়েছেন মিতুর নানি মনোয়ারা বেগমও। আর খুনের মামলার আসামি মিতুর বাবা মমিনুল ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্যে। মমিনুলের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মিতু ও তার নানি মনোয়ারা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে।
মিতুর মা লতিফা হেলেনের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে মমিনুলের। এরপর থেকে বাবার সঙ্গেই সত্-মায়ের ঘরে থাকতেন মিতু। প্রথম স্ত্রী লতিফার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর মেয়েকে নিজের কাছে রেখে দিলেও প্রায় দুই বছর আগে ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই এক রাতে বন্ধু হামজা ও আহসানকে নিয়ে খুন করেন লতিফাকে। এ ঘটনায় মমিনুলের শাশুড়ি ও লতিফার মা ২৫ জুলাই ২০১৯ থানায় মামলা করেন। মামলায় মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ১৯ সালের ২৪ জুলাই রাতে তার স্কুলশিক্ষক মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করে পাশের পুকুরে লাশ ফেলে দেয় মমিনুল, হামজা ও আহসান। মামলায় অভিযুক্ত একই গ্রামের মমিনুল, হামজা ও আহসান এখন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। মামলা তুলতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাদের ভয়ে সহায় সম্বলহীন নানি-নাতনি এখন আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে।
মিতুমনিকে তার মা লতিফা বেগম আদর করে নাম রেখেছিলেন ‘মিতু বালা’। মিতু অভিযোগ করেন, ২৪ জুলাই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই প্রতিকূল আবহাওয়াতেই দোকানে যাওয়ার অজুহাতে বন্ধু হামজা ও আহসানের সঙ্গে ঘর থেকে বের হন তার বাবা মমিনুল। ঘণ্টাখানেক পর যখন ফিরে আসেন, তখন মমিনুলের সাদা শার্ট জুড়ে তাজা রক্তের ছাপ ছিল। বৃষ্টিতেও ঘেমে যাচ্ছিলেন। উদ্ভট সব আচরণ করতে করতে গরুর খাবার খাচ্ছিলেন। পুলিশের কাছে এমন সাক্ষ্য দেওয়ার পর থকেই এখন তার বাবা মমিনুল তাকে খুন করতে চাইছেন।
মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, মামলায় অভিযুক্ত মমিনুলের এক আত্মীয় পুলিশের ওসি হওয়ায় এই হত্যা মামলাটির তদন্ত প্রভাবিত করা হয়। এমনকি হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত নষ্ট করার অভিযোগও উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ কারণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের দিকে মামলাটি তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (পিবিআই) নাছির উদ্দিন বলেন, তদন্তে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়েছে। খুব দ্রুত চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হবে। অপরাধীরা ছাড় পাবেন না।
