গাজীপুর জেলা কারাগার
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর জেলা কারাগারে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি বন্দি রয়েছে। কারাগারে এতো বেশি সংখ্যক বন্দির স্থান সংকুলান যেমন হচ্ছে না তেমনি বন্দিদের আবাসন ব্যবস্থাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী সামাল দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি কারাগারের নিরাপত্তা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে গাজীপুর জেলায় উন্নীত হওয়ার পর পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সন্নিকটে ছোট পরিসরে গাজীপুর জেলা কারাগারটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯৯৯ সালে ৫ দশমিক ৯৮ একর ভূমির ওপর গাজীপুর পুলিশ লাইনসের কাছে বর্তমান স্থাপনায় কারাগারটি চালু করা হয়। দেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় গাজীপুর জেলা কারাগারটি অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থাত্ কম বন্দি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। গাজীপুর জেলাটি বিশেষ ক্যাটাগরির জেলা এবং এটি অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত। এ ছাড়া এ জেলায় রয়েছে ছোট বড় প্রায় ৭ হাজার শিল্প কারখানা। বিপুল জনসংখ্যা ও প্রচুর শিল্প কারখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার আধিক্যের কারণে জেলায় অপরাধ প্রবণতার হারও বেশি। এছাড়া গাজীপুর জেলার অভ্যন্তরে রয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন যা আয়তনের দিক দিয়ে দেশের বৃহত্তম সিটি করপোরেশন। গাজীপুরের কাশিমপুরে হাই সিকিউরিটি ও মহিলা কারাগারসহ চারটি কারাগার থাকলেও সে সব কারাগারে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দিসহ সব এলাকার বন্দিদের রাখা হয়। কিন্তু গাজীপুর জেলা কারাগারটিতে জেলার বন্দিদের রাখার ব্যবস্থা থাকলেও অধিক জনসংখ্যার কারণে এ কারাগারটিতে বন্দির সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
কারাগার সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমান স্থানে ১৯৯৯ সালে কারাগারটি চালু করার সময় বন্দি ধারণ ক্ষমতা ছিল ২০৭ জন। সে অনুপাতে বন্দি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১০০ বন্দি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভবন নির্মাণ করায় বর্তমানে কারাগারটিতে বন্দি ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ২৯৭ জন এবং নারী বন্দি ১০ জন। অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে কারাগারটিতে মোট বন্দি রয়েছে ১৭৫৫ জন। অর্থাত্ ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বন্দি রয়েছে প্রায় ছয় গুণ বেশি।
