কালীগঞ্জে বাড়ছে করোনা রোগী

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৯

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে করোনা রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের নমুনা সংগ্রহে ১৪ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের মাথাব্যথা নেই। হাটবাজার, রাস্তাঘাট, দোকানে মানুষজন কোনোভাবেই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে স্থানীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করার ওপর জোর দিয়ে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করছে উপজেলা ও থানা প্রশাসন। এত কিছুর পরও খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বহির্বিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় হলেও তাদের মাঝে নেই সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে জনবলের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।

রবিবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে পুরুষ ও মহিলা কাউন্টারে দুজন লোক রোগীদের নাম, ঠিকানা, বয়স ও রোগসম্পর্কিত তথ্য নিয়ে রোগীদের টিকিট দিচ্ছেন। এতে একজন রোগীর জন্য প্রায় ৪/৫ মিনিট সময় লাগছে। একজনের গা ঘেঁষে অন্যজন দাঁড়িয়ে আছে টিকিটের জন্য। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে আবার সঙ্গে শিশু নিয়ে আসছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ রোগী হয়। ঐ পরিমাণ রোগীদের জন্য হাসপাতাল বহির্বিভাগে মাত্র পুরুষ, মহিলা ও শিশু কাউন্টার মিলিয়ে তিনটি কাউন্টার রয়েছে। যেখানে তিন জন মাত্র লোক রয়েছে ৪০০-৪৫০ রোগীর টিকিট দেওয়ার জন্য। এরমধ্যে বর্তমানে শিশু কাউন্টারটি বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতালে সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ৩৬ জন কর্মচারী সংকট রয়েছে। যে কারণে রোগীদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কাজ করতে জনবল দরকার। এছাড়া ১৫ জন চিকিত্সকের পদ এখনো শূন্য। যদি তা পূরণ করা যেত তাহলে চিকিত্সা সেবা আরো দ্রুত করার পাশাপাশি সেবার মানও হতো উন্নত। তবে শত সমস্যায়ও কোনো রোগী চিকিত্সা সেবার জন্য হাসপাতালে আসলে তাকে বিনা চিকিত্সায় ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।