মাস্ক পরায় অনীহা কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪২

করোনা ভাইরাস

দিনাজপুর অফিস

মাস্ক না পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। এ ব্যাপারে প্রশাসন বিভিন্ন অভিযান শুরু করলেও সচেতন হচ্ছে না মানুষ। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণরোধের প্রধান উপায় হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। গতকাল দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, লোকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও তা কারো কারো ছিল থুতনির নিচে, আবার কারো নাকের নিচে। অনেকেরই মধ্যে মাস্ক পরিধানে অনীহা পরিলক্ষিত হয়। এদের কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার করছেন, নিজেকে রক্ষার ভয়ে নয়, প্রশাসনের অভিযান থেকে রক্ষার জন্য। আর এসব কারণে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, সবাই মাস্ক ব্যবহার করলে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চললেই দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক পরিধানে জনগণকে উত্সাহিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের জন্য কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর শহরের বাহাদুরবাজার থেকে কাঁচাবাজার সরিয়ে বড়মাঠে স্থানান্তরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন। সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা ও লকডাউন বাস্তবায়নে শুরু করেছে নানামুখী তত্পরতা। তবে উপজেলার শহর ও গ্রামের মাঠ পর্যায়ে মানুষজন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন যানবাহনে অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ছাড়া এখনো চলাচল করছে। আড্ডা কমেনি জনসমাগম হওয়া স্থানগুলোতে। কমেনি সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও। স্থানীয় শিক্ষক সাবাহাত আলী সাব্বু, স্বেচ্ছাসেবী নওশাদ আনসারী, খুরশীদ জামান কাঁকন, আলমগীর হোসেনসহ অনেকেই বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে এখনি ব্যবস্থা না নিলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

এছাড়া পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ডেটলসহ অন্যান্য পণ্য সহজলভ্য রাখা উচিত এ সময়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ বলেন, সৈয়দপুরবাসীকে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে যা যা করার তাই করা হবে। এরপর যদি সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেউ অনীহা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নাগেশ্বরীতে রবিবার সকালে মাস্ক না পরায় সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা ও ১১ জনকে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে পথচারীদের মধ্যে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে কেবি সড়কে দাঁড়িয়ে শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হক সুমন, নাগেশ্বরী থানার ওসি রওশন কবীর, প্রেস ক্লাবের সভাপতি লিটন চৌধুরী প্রমুখ।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, কাউখালীতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মাস্কবিহীন চলাফেরা করায় ১০ জনকে ১০০ টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার দুপুরে কাউখালী উত্তর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালেদা খাতুন রেখা।

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পাকুন্দিয়ায় মাস্ক না পরায় ১১ জনের কাছ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার সুখিয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম লুত্ফুর রহমান।