দেশে লকডাউন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বইমেলা বন্ধ হবে এমনটাই ভেবেছিলেন সবাই। কিন্তু সবার ভাবনার বিপরীতে গিয়ে বইমেলা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে বইমেলা। গতকাল রবিবার দুপুরেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বইমেলা বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে এ সময় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ এবং জনসমাবেশের ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রকাশক, লেখক ও পাঠকরা। অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন এ সিদ্ধান্তকে। একেবারে বন্ধ হওয়ার চাইতে চালু থাকা বরং ভালো বলেছেন বেশির ভাগ প্রকাশক। কারণ আগ্রহী পাঠকদের মেলায় আসার সুযোগ খোলা থাকলো। যারা মেলায় আসবেন তারা বই কিনতেই আসবেন। আবার অনেকে বলছেন, লকডাউনের কড়াকড়িতে যদি পরিবহন বন্ধ থাকে তাহলে মানুষ আসবে কীভাবে মেলায়। শহরে মানুষের চলাচলের বিধিনিষেধ সম্পর্কে পরিষ্কার করে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন অনেক প্রকাশক।
বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ মেলা সচল রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার মেলায় তেমন পাঠক বা দর্শক আসেনি। এমন প্রেক্ষাপটে মেলাটি বন্ধ হয়ে গেলে প্রকাশকদের লোকসানের পরিমাণটা আরো বাড়ত। তাই মেলা সচল রাখায় আশার আলোটি একেবারে নিভে গেল না। সব মিলিয়ে আমারা আশাবাদী।
তরুণ লেখক স্বকৃত নোমান গতকাল এসেছিলেন মেলায়। তিনি বলেন, বইমেলা বন্ধ না হয়ে চালু থাকায় এক ধরনের স্বস্তিবোধ করছি। তাছাড়া এখন করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের চলাচল করতে হবে। প্রতিদিনই মেলায় আসি, পাঠকের সঙ্গে সংযোগ ঘটছে। লকডাউনের মধ্যেও কিছু মানুষ ঠিকই হাজির হবে এই বইমেলায়।
মেলা চালু রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাম্রলিপি প্রকাশনীর প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, সোমবার থেকে মেলাটি বন্ধ হয়ে গেলে প্রকাশকদের বিপদের সীমা থাকতো না। কারণ এই লকডাউনের মধ্যে বিশাল আকৃতির প্যাভিলিয়ন থেকে ছোট-বড় স্টলগুলো সরানো সম্ভব হতো না। পাঁচ শতাধিক স্টলের প্রতিটি কাঠামো খুলে সেগুলোকে সরানো সহজ কাজ নয়। সেই বিবেচনায় লকডাউনেও মেলা চালু থাকায় এই দুশ্চিন্তা থাকছে না। পাশাপাশি সামনের দিনগুলোতেও অল্প হলেও বই তো বিক্রি হবে, কমবে ক্ষতির পরিমাণ।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা পাঠক তৌফিক মীর্জা বলেন, আমরা যদি দিনে চলাচল করতে পারি, তাহলে সময় সুযোগ বুঝে মেলায় আসতে পারব। সেই চলাচল কী আমরা করতে পারব—সেটা তো সরকারকে খোলাখুলিভাবে জানাতে হবে।
নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে, গতকাল ১৮তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৪৮টি। এ পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ২ হাজার ১৬১টি। বরাবরের মতো এবারও প্রকাশনায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি বিক্রিতে পিছিয়ে রয়েছে কবিতার বই। রবিবার প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক বইয়ের মধ্যে গল্পের বই ১০টি, উপন্যাস ৮, কবিতা ১৬, গবেষণা ১, ছড়া ২, জীবনী ১, রচনাবলি ১, মুক্তিযুদ্ধ ২, ভ্রমণ ১, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ১, ধর্মীয় ১, সায়েন্সফিকশন ১ ও অন্যান্য বই ৩টি প্রকাশিত হয়েছে।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য: মিজান পাবলিশার্সের সুরমা জাহিদের ‘মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধা’, শিশুরাজ্যের দিলীপ কুমার অধিকারীর ‘সূর্যিমামা চাঁদমামা’, কবিতাচর্চার অনিমেষ বড়ালের ‘নির্জন প্রান্তরে’, সময় প্রকাশনীর স. ম. শামসুল আলমের ‘বহুরূপি দেবশিশু’, অনন্যার আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘লোকে বলে এত রাতে রাস্তায় হেঁটে যায় কে’, জাহানারা পারভীনের কাব্যগ্রন্থ ‘সেলাই করা ঠোঁট’, রাইটার্স গিল্ডের শারমীন সাথীর ‘একদিন ঠিক দেখা হবে’, ফেরদৌস হাসানের ‘পা’ প্রভৃতি।
