হাবিবা লাবনী
সিঁড়ি প্রকাশন
প্রচ্ছদ: নিয়াজ চৌধুরী তুলি। মূল্য: ২০০ টাকা
পঁয়ত্রিশটি কবিতা রয়েছে এতে। অন্য কবিতার বই থেকে ভিন্ন। কেন? ‘ফসলী আবেশ’-এর প্রত্যেকটি কবিতার শেষে কবি কী বলতে চেয়েছেন, তা তিনি পাঠককে জানিয়েছেন আলাদা করে! পাঠকের কবিতাবিমুখতা নাকি কবিতার বই বিক্রি হয় না—প্রকাশকের এই অভিযোগকে বিবেচনায় নিয়ে কবির এই অভিনব প্রয়াস! একটি উদাহরণ দেওয়া যাক—‘আমি স্বরাজের ছেঁড়া তার,/মিশে আছি বাউলের তপ্ত/আফিম আক্রান্ত গানে।/মাটিতে তৃষ্ণার অভাব নেই।/রস ঢেলে মেলে দেখো;/লালন একতারা ছেড়েছে,/বন, নদী, সব ভুলে,/নিমিষে আমজনতা।’ এই কবিতার শিরোনাম ‘খেই হারা’। এর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন কবি— ‘একতারার একটা তার যদি ছিঁড়ে যায় তবে সে আর বাজে না। আমার অবস্থাও অনেকটা তাই। আমাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমি যে বাঁধনহারা। কী ঘর কী সংসার আমাকে টানে না। কী এক ব্যাকুলতা আমায় তাড়া করে বেড়ায়।...’
কিন্তু কবিতা তো বোঝা-না-বোঝা এক রহস্য। সেটা উন্মোচনের দায় কবির নাকি পাঠকের? এই প্রশ্ন রেখেও বলা যায়—কবির সরল ভাষ্য পাঠককে প্রাণিত করবে।
