করোনা প্রতিরোধে সরকারি বিধিনিষেধ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:০১

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার গতকাল হইতে এক সপ্তাহের জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করিয়াছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ইহাকে লকডাউন বলিতে নারাজ। তাহার মতে, ইহা ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ যাহাতে অফিস-আদালত কম লোক দিয়া চালাইতে পারে; কিন্তু এই কঠোর বিধিনিষেধ কতটা বাস্তবায়িত হইতেছে? গতকাল দেখা গিয়াছে, বাস ছাড়া সকল কিছুই চলিতেছে। এমনকি কোথাও কোথাও যানজটেরও সৃষ্টি হইয়াছে। ইহার পূর্বে ২৯ মার্চ যে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়, তাহারও কি সকল কিছু মানা হইতেছে? নূতন করিয়া করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে বর্তমানে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এমনকি আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে লকডাউন চলিতেছে। এখানে একটি প্রশ্ন হইল, পুলিশ, র্যাব ও আর্মি দিয়া কড়াকড়ি আরোপ বা কঠোর বিধিনিষেধের মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধের কর্মসূচি আসলে কতটা কার্যকর হইবে? ইতিমধ্যে পুরান ঢাকার ইসলামপুর ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা এই কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করিয়াছেন। রাস্তায় ব্যাপক গাড়িঘোড়া দেখিয়া অনেকে দাবি করিতেছেন যে, এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয় নাই; কিন্তু এই সকল বিধিবিধান জোরজবরদস্তি করিয়া বাস্তবায়ন করা কি সরকারের কাজ? লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইতিপূর্বে বিশ্বের অনেক দেশেই হইয়াছে।

আমরা মনে করি, সরকারের মূল কাজ হইল ওয়ার্নিং বা সতর্কবার্তা দেওয়া। অনেক সময় সচেতন করাটাই যথেষ্ট। আমরা লক্ষ করিতেছি যে, ঢাকা শহরে সাধারণ মানুষের অর্ধেকেরও অধিক নিয়মিত মাস্ক পরিধান করিতেছেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখিবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হইয়াছে। ইহাই সরকারের মূল দায়িত্ব। এই ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা রহিয়াছে। অন্যদিকে ভ্যাকসিন সরবরাহও আশানুরূপ। বলিতে গেলে ইহা এখন সুলভ। এখন কেহ যদি বলেন সরকারি বিধিনিষেধ কাজে আসে নাই, তাহা হইলে কী যায়-আসে! দ্বিতীয়ত টিকা আমদানির ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশসমূহ বিপাকে পড়িয়াছে। টিকার উত্পাদক ও রপ্তানিকারকরা বলিতে গেলে সকলেই উন্নত দেশের। তাহারা গরিব ও অনুন্নত দেশসমূহে যথারীতি টিকা প্রদান করিতেছে না। ফলে এই সকল দেশ এখন দুর্ভোগ পোহাইতেছে। কোনো কোনো দেশে টিকা আছে, টিকা নাই—এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সৌভাগ্যবান দেশ। কারণ আমরা দূরদর্শী কূটনীতির পরিচয় দিয়া কিছু টিকা অন্তত আমদানি করিতে সক্ষম হইয়াছি এবং কিছু টিকা পাইয়াছি বন্ধুত্বের স্মারক হিসাবে। শেষ পর্যন্ত ৬ কোটিরও অধিক টিকা পাওয়ার আশা আমরা করিতেছি।

সরকার জনগণের জীবন রক্ষার জন্য কিছু জরুরি বিধিনিষেধ আরোপ করিয়াছে। এখন তাহা জোর করিয়া বাস্তবায়ন করিতে হইবে কেন? মনে রাখিতে হইবে, উন্নত দেশে সরকার সকল কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে না, নাকও গলায় না। সুতরাং উন্নত বিশ্বের পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই আরো উন্নতি লাভ করিতে হইবে।