বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ৩০ মার্চ ২০২১ তারিখে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তির ৪ নম্বর শর্তে বলা আছে, ‘মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের ৩৯০০/২০১৯ নং মামলার রায় অনুযায়ী ১২.০৬.২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের পূর্বে যারা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ লাভ করেছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।’ কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (মাউশি) বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর পৃষ্ঠা ৩৪/৮৮-এ বলা আছে ‘চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা: অনূর্ধ্ব পঁয়ত্রিশ বছর!’ এ অবস্থায়, একজন শিক্ষক তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ও মেধা-যোগ্যতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ পেলেও তিনি বেতন পাবেন না! ২০১৬ সালেও এনটিআরসিএ শিক্ষকদের মেধাতালিকা অনুযায়ী নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। কিন্তু যোগদানের পরে শিক্ষকরা জানতে পেরেছিলেন পদটি ছিল ‘মহিলা কোটা’ বা ‘সৃষ্ট পদ’। শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির জন্য যখন মাউশি গেলেন, তখন জানতে পারলেন, এসব পদের এমপিওভুক্তি হবে না! অপেক্ষা করতে করতে অনেক নিবন্ধনধারীর বয়স ৩৫ পার হয়ে গেছে। মাউশি এবং এনটিআরসিএ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও বেতন প্রদানের মহান দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তাঁরা যদি দুই মেরুতে অবস্থান নেন, তাহলে শিক্ষকদের দায়িত্ব কে নেবেন? সব বিষয়ে মহামান্য উচ্চ আদালতে রিট বা রায়ের প্রত্যাশা না করে মাউশি নীতি নির্ধারকরাই মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের স্বার্থে এমপিও নীতিমালার একটি অংশ সংশোধন করার উদ্যোগ নিতে পারেন।
নজরুল ইসলাম
এমফিল গবেষক, স্কুল অব এডুকেশন,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
