ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সেরোজার প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে বন্যা, ভূমিধস ও ঝড়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে, আরো ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী ক্ষুদ্র দেশ পূর্ব তিমুরে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, দেশটির প্রায় ৩০ হাজার লোক বন্যাকবলিত হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে উঠেছে; কিন্তু পাঁচটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় এবং উপড়ে পড়া গাছে কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ঝড়ে ঘরবাড়ি হারানো প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েক শ ঘরবাড়ি ও সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিএনপিবি জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট প্রায় ছয় মিটার উঁচু ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকটি জাহাজ ও ইঞ্জিন বোট ডুবে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জোকো উয়িদোদো সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির সময় ঐ অঞ্চলের বাসিন্দাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন, কিন্তু বিএনপিবি সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারছে না বলে জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার ভোররাতে ঘূর্ণিঝড় সেরোজা তিমুর দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে সাভু সাগরে আঘাত হেনেছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়ে আরো বৃষ্টি, ঢেউ ও ঝড় বয়ে যেতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পের্তামিনা জানিয়েছে, চরম আবহওয়া পরিস্থিতির কারণে নুসা তেংগারায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কেরোসিনের একটি দোকান ও জ্বালানিবাহী চারটি লরি বন্যায় ডুবে গেছে।
