গাজীপুর মহাসড়ক উন্নয়ন
মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি
আসন্ন বর্ষা মৌসুম ও ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারবে কি না, তা নিয়ে উত্কণ্ঠায় রয়েছেন এই মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, পরিবহন মালিক-চালক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা। কারণ এই ১২ কিলোমিটার অংশে বর্তমানে বিআরটি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এ প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা কেউ নিশ্চিত বলতে পারছে না। যদিও বিআরটি কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের এই অংশ সচল রাখার জন্য পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু ঈদ ও বর্ষা মৌসুমে তা যানবাহন চলাচলের উপযোগী ও নির্বিঘ্ন হবে কি না, তা নিয়ে দুর্ভাবনায় আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহন মালিক-চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেল, আসন্ন ঈদুল ফিতর ও বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে বিআরটি কর্তৃপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কারণ ঈদে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরমুখো লাখ লাখ যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছার যেমন প্রবল চাপ থাকবে, তেমনি বর্ষায় মহাসড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিআরটি, উড়ালসড়ক, ওভারপাস, সাধারণ যান চলাচলের জন্য পৃথক লেন ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ একসঙ্গে চলমান রয়েছে। অথচ কোনোটির কাজই এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি এবং আগামী দেড়-দুই মাসের মধ্যে এগুলোর কাজ শেষ হওয়ার তেমন সম্ভাবনাও নেই। উপরন্তু বর্তমানে যে গতিতে কাজ চলছে, বর্ষা শুরু হয়ে গেলে সেই গতি আরো শ্লথ হবে তেমন আশঙ্কাও রয়েছে।
এক্ষেত্রে অবশ্য বিআরটি কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদ ও বর্ষা মৌসুমের বিষয়টি মাথায় রেখেই দ্রুততার সঙ্গে সড়কের কাজ এগিয়ে চলেছে, যাতে ঈদ ও বর্ষা মৌসুমে যানজটমুক্ত পরিবেশে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। উল্লেখ্য, গাজীপুুরের শিববাড়ি থেকে ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে দ্রুততম সময়ে যাতায়াত করার জন্য গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান প্রজেক্টের আওতায় ২০১২ সালে দেশের প্রথম বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্প শুরু করা হয়। এরপর কয়েক দফায় প্রকল্পের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। করোনা মহামারির কারণে আবারও প্রকল্প শেষ করার সময় ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি এডিবি, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি), গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (ডিইএফ) এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলার কারণে টঙ্গী থেকে চান্দনা-চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ যথেষ্ট বেড়ে গেছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না, পাশাপাশি ধুলায় ছেয়ে যাচ্ছে এলাকা। দিনে কয়েকবার পানি ছিটালেও ধুলার কারণে এ পথে চলাচল অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
