করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৯

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বিধিনিষেধ মানাতে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারীদের কঠোর হওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। গতকাল সোমবার গণভবনে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২১-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন আইন, ২০২১-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন, যুদ্ধাহত ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে উত্সব ভাতাদি প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভায় শ্রেণিভেদে তিন ধরনের ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে সব শ্রেণির বীর মুক্তিযোদ্ধারা উত্সব, নববর্ষ ও বিজয় দিবস ভাতার আওতায় আসবে।

বছরে দুটি উত্সব ও বিজয় দিবসে ভাতা পাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা :খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার টাকা হারে বছরে দুটি উত্সব ভাতা এবং একই সঙ্গে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে জীবিতদের মহান বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ফলে এখন থেকে সব শ্রেণির বীর মুক্তিযোদ্ধা উত্সব, নববর্ষ ও বিজয় দিবস ভাতার আওতায় আসবেন।

বর্তমানে ৫ হাজার ২২২ জন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মাত্রাভেদে চারটি (এ, বি, সি ও ডি) শ্রেণিতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা থেকে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ৯৫২ জন মৃত-যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা, ৫ হাজার ৮১৬ জন শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা এবং বছরে ১০ হাজার টাকা হারে দুটি উত্সব ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা বাংলা নববর্ষ ভাতা এবং জীবিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস ভাতা পাচ্ছেন না।

বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা হারে, ৬৮ জন বীর উত্তম পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা হারে, ১৭৫ জন বীর বিক্রম পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে এবং ৪২৬টি বীর প্রতীক পরিবারকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ১২ হাজার টাকা হারে ভাতার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা হারে দুটি উত্সব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা এবং জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা পান।

এদিকে ‘লকডাউন’ আরো বাড়বে কি না, তা আগামী বৃহস্পতিবার জানা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। গতকাল থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অফিসে কাজকর্ম শুরু হয়েছে। ৫০ ভাগেরও কম জনবল নিয়ে অফিস চলছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘লকডাউনের নির্দেশনা সবাইকে কঠোরভাবে মানতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। করোনার সংক্রমণ রোধে মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। লকডাউন দেওয়ায় আগের চেয়ে মানুষের আনাগোনা এখন কমেছে।’ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, বইমেলায় কঠোরভাবে নিয়ম মানা হচ্ছে। যদি এর ব্যত্যয় হয়, তাহলে সরকার নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করবে। গণপরিবহনসহ অন্য কোথাও যদি সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে, তাহলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনার বিস্তার রোধে সাত দিনের জন্য লকডাউন শুরু হয়েছে সোমবার ভোর ৬টা থেকে। নাগরিকদের জন্য নির্দেশনার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই সাত দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। জরুরি ওষুধ কিংবা একান্ত প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া আর কিছু কিনতে বাইরে যাওয়া যাবে না। কাজ শেষে দ্রুত বাসায় ফিরতে হবে। দাফন বা সত্কারের কাজে বাইরে যাওয়া যাবে। সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। ব্যক্তিগত যানবাহনও চালানো যাবে না। মোটরসাইকেল ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বিমানও চলবে না।

পণ্যবাহী ও উত্পাদনের কাজে নিয়োজিত পরিবহন এ নির্দেশের আওতায় পড়বে না। এছাড়া যারা বিদেশে যাবেন অথবা যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, তারা যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে পরিবহন ব্যবহার করবেন তা এ নির্দেশের আওতায় পড়বে না। এর আওতামুক্ত থাকবে সংবাদপত্রবাহী গাড়ি, গণমাধ্যম ও সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং সংবাদকর্মী।

গার্মেন্টস ও কারখানা খোলা থাকবে। কারখানার নিজস্ব গাড়িতে শ্রমিকদের আনতে হবে। কাজ শেষে পৌঁছে দিতে হবে। কারখানার কাছাকাছি এলাকায় শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। সেখানে চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে মালিকদের নিজ উদ্যোগে।