লকডাউনের মধ্যে দিনে চার ঘণ্টা দোকান খোলা রাখার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিউমার্কেট, পুরান ঢাকার ইসলামপুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকার ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে নিউমার্কেট ও গাউছিয়ার দোকান মালিক ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা লকডাউনের মধ্যে সীমিত আকারে দোকান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান-পাট খোলা রাখার দাবি জানান তারা। তারা মার্কেটের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে ‘এবারের লকডাউন মানি না, মানবো না’—বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঐ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এতে মিরপুর সড়কে নিউমার্কেট থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টা দুয়েক ধরে মিছিল সমাবেশ করার পর ব্যবসায়ীরা গাউছিয়া ও নিউমার্কেট এলাকায় ছোট ছোট জটলা করে অপেক্ষা করতে থাকেন।
তবে নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, মুন ম্যানশন শপিং সেন্টার, ইশতিয়াক ম্যানশন, নূর ম্যানশন, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নূরজাহান ম্যানসন, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গ্লোব শপিং সেন্টার, আল্পনা প্লাজাসহ বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা সড়কে নামলেও এই এলাকায় কোনো দোকান খুলতে দেখা যায়নি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার দোকান খোলার সময়সীমা বেঁধে দিলে আমরা অন্তত ঈদের মৌসুমের ব্যবসায় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাব। ঐ সময়ের মধ্যে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করতে চাই। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনায় মরতে হবে। আর দোকান পাট বন্ধ থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। এখন দুই দিকেই মরণ।
নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, সরকার বলছে এক সপ্তাহের লকডাউন। অথচ সোমবার সকাল থেকে আমরা দেখছি তা ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে। শিল্প কারখানা খোলা, গাড়ি চলছে, সবই চলছে শুধু মার্কেট বন্ধ। দোকানপাট বন্ধ রাখতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এটা কোন কথা? সব খোলা রেখে দোকান বন্ধ রাখবে এটা হতে পারে না। যদি লকডাউন হয় তাহলে শতভাগ লকডাউন হোক। আর যদি অনেক কিছু খোলা থাকে তবে মার্কেট খোলা রাখতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখতে চাই। মঙ্গলবার নিউমার্কেট, তেজগাঁও, কলাবাগান, ধানমন্ডি থানা এলাকার মার্কেট হলিডে। বুধবার থেকে দিনে অন্তত চার ঘণ্টা করে মার্কেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করছি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফয়জুর রহমান বলেন, মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবিতে ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে বিক্ষোভ করেন। প্রচুর মানুষ সমাগমের কারণে এই বিক্ষোভের মধ্যেও করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি ঘটবে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছি। যাতে সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে তারা পালন করেন।
এদিকে, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় পুরান ঢাকার ইসলামপুর-পাটুয়াটুলি রোডে কয়েক শ ব্যবসায়ী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি।
এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গতকাল গণপরিবহন না পেয়ে বিক্ষোভ করেছেন কারখানা শ্রমিকেরা। রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই বিক্ষোভ শুরু করতে প্রায় ১৫ মিনিট পরে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বাস না পেয়ে তারা রাস্তায় নামেন।
