করোনা রোগীর চাপে চট্টগ্রামে আইসিইউ শয্যাসংকট

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৩

চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে। সামর্থ্যবান রোগীরা লক্ষণ দেখা দিলেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালেও করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ১০০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কোথাও আইসিইউ বেড খালি নেই। ফলে বিত্তশালী অনেকেই ঢাকায় ছুটছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনসচেতনতার ওপর তারা বেশি জোর দিচ্ছেন।

জানা গেছে, বেশির ভাগ করোনা রোগী এবার চট্টগ্রামের বেসরকারি নামিদামি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করাচ্ছে। বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে আলাদা করোনা ইউনিট করে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে আইসিইউ বেডের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ খালি নেই। সংকটাপন্ন করোনা রোগী ছাড়াও অপারেশনের জটিল রোগীদেরও আইসিইউতে রাখতে হচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুপাতে আইসিইউ বেড মিলছে না। করোনার চিকিত্সাসেবা দেওয়া নগরীর বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে তাদের এখানে ৭০ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। আইসিইউ বেড দুটি বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে। কেবিন ও আইসিইউ বেড কোনোটাই খালি নেই। রোগী আসলেও ভর্তি নিতে পারছি না। নগরীর মেহেদীবাগে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালেও একই অবস্থা। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, আমার ১২টি আইসিইউ বেডের কোনোটাই খালি নেই। কেবিন ও আইসিইউসহ ৪২ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. ইউসুফ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ৪৬ জন করোনা রোগী ভর্তি। কেবিন খালি না থাকায় প্রতিদিন চার-পাঁচ জন রোগী ফেরত যাচ্ছে।

এদিকে সরকারিভাবে করোনা রোগীর চিকিত্সা কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সব বেডের সঙ্গে অক্সিজেন সংযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। আইসিইউ বেড রয়েছে ১০টি। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. আবদুর রব বলেন, বর্তমানে ৬২ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। আগের বার বয়স্ক লোকেরা বেশি আক্রান্ত হলেও এবার তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছে। রোগী আরো বাড়লে আমাদের চিকিত্সকসহ বাড়তি জনবলের প্রয়োজন হবে। এদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে করোনা চিকিত্সায় চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। ১ হাজার ৩৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে আড়াই হাজারের মতো রোগী রয়েছে, যার মধ্যে ১৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত। তাই রোগী আরো বাড়লে চিকিত্সা কার্যক্রম চালানো অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবির ইত্তেফাককে বলেন, করোনা রোগী আরো বেড়ে গেলে চিকিত্সাসেবা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। কেননা আমাদের মাত্র ২০০ করোনা রোগী ভর্তির সক্ষমতা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রামে এখনো করোনা চিকিত্সার ৩০ শতাংশ বেড খালি রয়েছে। প্রয়োজনে বন্ধ হয়ে যাওয়া আইসোলেশন কেন্দ্রগুলো চালু করা হবে।