শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়নের পূর্বশর্ত :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বাসভবন গণভবনে আফগানিস্তানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আব্দুল কাইয়ুম মালিকজাদ সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য শান্তি আবশ্যক। আমরা লোকদের জড়িত করি যাতে তাদের সমর্থন শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে।’ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

বৈঠকে আফগানিস্তানের দূত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আফগান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি হওয়ায় সবার জন্যই সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে লড়াই করছি।’ বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের সম্পর্ককে চমত্কার আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই পররাষ্ট্রনীতির অনুসারী। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আফগানিস্তানের উন্নয়নে তার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এনজিও ব্রাক আফগানিস্তানের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সেখানে কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের প্রতি তার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। আফগান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ চমকপ্রদ অগ্রগতি অর্জন করায় তার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন সবার জন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ আফগান রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। তিনি ঢাকার আফগানিস্তানের দূতাবাসকে সহযোগিতা প্রদানের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বেসরকারি খাতে সহায়তা বাড়াতে পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। তিনি আফগানিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাস পুনরায় চালু করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।