সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ জারি করা হয়েছে। নীতিমালাটি জারির পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে আশার সঞ্চার হয়েছে। যদিও শতভাগ বোনাসপ্রাপ্তি নিয়ে নানা মহলে চলছে আলোচনা। সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শতভাগ বোনাসের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশনা জারি করলে সহজ হয়ে যায়। আর অর্থ মন্ত্রণালয় আন্তরিক হলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা শতভাগ বোনাস পেতে কোনো সমস্যা হবে না। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদেরা শতভাগ বোনাস পাওয়া এখন সময়ের দাবি এবং এটি তাঁদের অধিকার।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা একদিনে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাননি। ধাপে-ধাপে পেয়েছেন। এদিকে তাঁরা নামেমাত্র পাচ্ছেন বাড়িভাড়া ও চিকিত্সা ভাতা। গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরাঞ্চলে হোক কোথাও বর্তমানে এই এক হাজার টাকায় বাড়িভাড়া পাওয়া যাবে না। ৫০০ টাকার চিকিত্সাভাতায় ওষুধ তো দূরের কথা, ডাক্তার ফিও মিলবে না। গ্রামাঞ্চলে পাঁচ হাজার টাকার নিচে বাড়িভাড়া পাওয়া যায় না। আর শহরাঞ্চলে ১০ হাজার টাকার নিচে। একজন ডাক্তারের ফি সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হলে ফি আরো বেশি। এ অবস্থায় দীর্ঘ ১৭ বছরেও বাড়ানো হয়নি উত্সবভাতা। অথচ সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন।
জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ জারির পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কমচারীর শতভাগ বোনাস পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে। শতভাগ বোনাসপ্রাপ্তি নিয়ে মিডিয়াসহ বিভিন্ন আঙ্গিকে নানান কথা হচ্ছে। কে, কী বলছেন সেটি আমাদের শোনার প্রয়োজন নেই। আমরা বুঝি শতভাগ বোনাস পাবেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। কখন থেকে শতভাগ বোনাস পাবেন সেটাই ভাবনা এবং বাস্তবায়নের বিষয়।
বর্তমান সরকার শিক্ষা-শিক্ষক বান্ধব সরকার। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তসহ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখীভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়িভাড়া ও চিকিত্সা ভাতা বাড়ানোসহ শতভাগ বোনাস প্রদান বর্তমান সরকারের জন্য কোনো ব্যাপারই নয়। আশা করি, সামনের উত্সবগুলোতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা শতভাগ বোনাস পাবেন।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ
সহ. অধ্যাপক,
আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজ, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
