ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে রাজশাহীর আমচাষিদের স্বপ্ন ফিকে!

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:২৩

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে রাজশাহীর আমচাষিদের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে গাছে যখন মুকুল, তখন কুয়াশায় ক্ষতি হয়। মার্চে সবুজ পাতার ফাঁকে যখন দেখা গেল গুটি, তখন বৃষ্টির প্রয়োজন। কিন্তু এপ্রিলের শুরুতে বৃষ্টির পরিবর্তে হলো ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। ক্ষতি হলো আরেক দফা। এ অবস্থায় উত্পাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আমচাষিরা।

আমচাষিরা বলেন, গত ৪ এপ্রিলের শিলাবৃষ্টির পর আম নিয়ে তাদের স্বপ্ন ফিকে হয়ে এসেছে। রাজশাহী জেলার সবচেয়ে বেশি আম উত্পাদন হয় বাঘা ও চারঘাট উপজেলায়। গত ৪ এপ্রিল ঐ দুই উপজেলায়ই ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। তারা জানান, শিলাবৃষ্টির পর তাদের মন খারাপ। তারা উত্পাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

চারঘাট উপজেলার জোতকার্তিক গ্রামের পলাশ কুমার প্রামাণিক জানান, ২৫ বিঘা জমিতে তাদের ৩০০ আমগাছ রয়েছে। প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার আম বিক্রি হয়। কিন্তু এবার কুয়াশা, অনাবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে অর্ধেকও আশা করতে পারছেন না। কারণ দুর্যোগের দিন এখনো শেষ হয়নি, আরো দুর্যোগ সামনে রয়েছে। পলাশ জানান, গত ৪ এপ্রিল দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। অথচ অক্টোবরের পর তাদের এখানে বৃষ্টিই হয়নি।

বাঘা উপজেলার রুস্তমপুর ভারতীপাড়ার রাশিদা বেগম বলেন, ‘গাছে এবার খুব মুকুল আসছিল। এখন তো আম ঝরে পড়ল। এক ঘণ্টার উপর শিলাবৃষ্টি হয়েছে।’ উপজেলার আড়পাড়ার আমচাষি আনোয়ার হোসেন পলাশ জানান, তার বাগানে প্রায় ১ হাজার আমগাছ রয়েছে। কুয়াশা, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে উত্পাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এদিকে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ সুলতান বলেন, ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়নি। যেগুলো ঝরেছে, সেগুলো ঝরতই। এখন আম একটু পাতলা হয়েছে। এগুলো আরো ভালোভাবে বড় হবে। আর ঝরে পড়বে না। উত্পাদন ঠিক থাকবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) উম্মে ছালমাও একই কথা বলেন। তিনি জানান, রাজশাহীর ৯ উপজেলার শুধু বাঘা ও চারঘাটেই একটু শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে দুই-একটা আম ঝরলেও খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। আমের পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত ভালো।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর আমবাগান ৩৭৩ হেক্টর বেড়ে এবার ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর হয়েছে। এবার হেক্টরপ্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উত্পাদন ধরে ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উত্পাদনের টার্গেট ধরা হয়েছে।