স্পোর্টস রিপোর্টার
ফিফা নিয়মিত বাফুফেকে প্রাপ্য অনুদান দিয়ে আসছে কোনো সমস্যা নেই। কিছু কিছু বিষয়ে আপত্তি আছে, সেগুলো কীভাবে চলবে তা জানিয়েছে ফিফা। বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘কোনো ফান্ড স্থগিত করেনি, এসংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং ফিফার কাছ থেকে ১৫ দিন আগেও ফান্ড পেয়েছি।’
গতকাল বিকালে ফিফার অ্যাসোসিয়েশন ডিপার্টমেন্ট, ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট ও কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বাফুফের ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীর বাফুফের ভার্চুয়াল মিটিং হয়। সেখানে বাফুফের অর্থ ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফিফা তাদের কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। ফিফার অর্থ ব্যয়ে বাফুফেকে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বলেছে। ফিফা মনে করে, বাফুফে এই জায়গাগুলোতে স্বচ্ছতা রাখতে পারেনি। শুধু এখানেই শেষ নয়, বাফুফে যেসব পণ্য ক্রয় করে, সেখানে গরমিল পেয়েছে ফিফা। ক্রয় নীতিমালা, টেন্ডার পদ্ধতি ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। অথচ এ বিষয়গুলো বাফুফের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু নাঈম সোহাগ দেখভাল করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকবল থাকার পরও বাফুফেতে অনিয়মের প্রশ্ন আগেও উঠেছিল, কখনো আমলে নেয়নি। বারবার বাফুফে বলে এসেছে, সবকিছুতেই স্বচ্ছতা রয়েছে। তাহলে ফিফা কেন আজ এসব প্রশ্ন তুলে বলছে ক্রয় নীতিমালা, টেন্ডার পদ্ধতি ও অর্থ পরিশোধের নানা অনিয়ম করা হয়েছে? কেন ফিফা ২০২১ সালের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে? সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘আমরা সবার পেমেন্ট অ্যাকাউন্টে দিয়ে থাকি। পেমেন্ট মেথডে সমস্যা নেই।’ তার এক কথা, ফিফা তাদের প্রশংসাপত্র দিয়েছে। কোনো বরাদ্দ বন্ধ রাখেনি। সালাম বলছেন, ‘এখানে অস্বচ্ছতা বলে কিছু নেই। অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে যেসব নীতিমালা অনুসরণ করা দরকার সেগুলো বলেছে।’ তিনি বলেন, ‘অনেক সময় কিছু বিষয় অনুসরণ করা হয় না। যেমন নেপালে যাবে ফুটবল দল। এক মাস আগে জানলে টিকিট প্রাইস এক রকম হতো, এক দিন আগে কিনলে আরেক রকম। সবকিছু অনুসরণ করা যায় না।’
আবু নাঈম সোহাগ বললেন, ‘ফিফাকে জানিয়েছি তারা যেন প্রতিনিধি পাঠিয়ে বাফুফের হিসাবের প্রক্রিয়াগুলো দেখিয়ে দেয়।’ ফিফা গত বছর কোভিড-১৯ ফান্ড ঘোষণা দিলেও বাফুফে সেই অর্থ নিতে পারেনি। অনিয়মের কারণেই নাকি এই অর্থ গ্রহণ করতে পারেনি। সালাম মুর্শেদী বলছেন, প্রজেক্ট না দিতে পারলে ফান্ড দেওয়া হয় না।
