আরো পাঁচ যাত্রীর লাশ উদ্ধার, লঞ্চ দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৩৫

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩২

লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ স্বজনদের কান্না এখনো থামেনি। গত দুই দিন ধরে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার লোকজন স্বজনদের শীতলক্ষ্যার তীরে খুঁজে ফিরছে। এখনো পাঁচ-সাত জন নিখোঁজ রয়েছে বলে তাদের স্বজনরা দাবি করেছেন। এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ এম এল সাবিত আল হাসানের আরো পাঁচ যাত্রীর লাশ গতকাল মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৩৫ জনের মৃতদেহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল উদ্ধার করেছে।

গত রবিবার এম এল সাবিত আল হাসান নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল থেকে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে কয়লাঘাট এলাকার অদূরে নির্মাণাধীন ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। রবিবার রাত পর্যন্ত পাঁচ জন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সোমবার ভোর থেকে নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় একাধিক বার চেষ্টার পর দুপুরে লঞ্চটিকে শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ে বন্দরের মদনগঞ্জে নদীর তীরে তুলে। লঞ্চের ভিতর থেকে একে একে ২১ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরো তিন জনের লাশ মেলে। রাতে মানসুরা নামের আরো এক সাত মাস বয়সি শিশুর লাশ উদ্ধার হলে তা স্বজনরা নিয়ে যায়। সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধারের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত আরো পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এরা হলেন—মুন্সীগঞ্জের মালপাড়া এলাকার হারাধন সাহার পুত্র আকাশ সাহা (১১), মুন্সীগঞ্জের মধ্য কোর্টগাও এলাকার মতিউর রহমান কাজীর পুত্র ইউসুফ কাজী (৫২), ঢাকা মিরপুর-১১-এর বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. সোহাগ হাওলাদার (২৩), লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পাঁচপাড়া এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে তানভীর হোসেন হূদয় (১৬), মুন্সীগঞ্জ মালপাড়া এলাকার সিরাজের পুত্র রিজভী (২০)।

নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের ওসি মো. শহিদুল আলম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৫ জনের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারী দল।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক বলেন, স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে তালিকা অনুযায়ী ৩৫ জন নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে সোমবার ৩৪ জনের লাশ উদ্ধারের পর হস্তান্তর করা হয়েছে।  সোমবার রাতে সাত মাস বয়সি এক শিশুর লাশ তার স্বজনরা নিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া আরো পাঁচটি লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এখনো তাদের তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

এ ঘটনায় নৌ-মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং জেলা প্রশাসন আলাদা আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।