পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে সহিংসতা, নিহত ৩

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৬

পশ্চিমবঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় ভোটগ্রহণের সময় সহিংসতায় তিন জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জন প্রার্থীও রয়েছেন।

গতকাল তৃতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলার ৩১ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই দফায় ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ?৬৮ শতাংশ। তবে ভোটগ্রহণকালে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে। কোথাও তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে, কোথাও তৃণমূল এবং সিপিএমের সহযোগী দল আইএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

ভোটগ্রহণ শুরুর আগে বীরভূমের দুবরাজপুরে বিজেপি কর্মী প্রতিহার ডোমের খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা মাঠে গামছা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ঐ বিজেপি কর্মীর মরদেহ উদ্ধার হয়। ভোটের আগে সোমবার রাতে হুগলির গোঘাটে মাধবী আদক নামে বিজেপির এক মহিলা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, তাকে লাঠি, বাঁশ ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে। গোঘাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সুনীল রায়ের ভোট দিয়ে ফেরার পথে মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ তাকে বিজেপি সমর্থকরা ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। তারপরই তার মৃত্যু হয়। বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হুগলির আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল খাঁ হামলার শিকার হয়েছেন। তাকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করা হয় বলে সুজাতা অভিযোগ করেছেন। হাওড়ার উলুবেড়িয়া দক্ষিণে বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। আহত কর্মীকে দেখতে গিয়ে সেখানকার বিজেপি প্রার্থী অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত দলীয় কর্মীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে চড় খেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই আসনেই হামলার শিকার হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী মন্ত্রী নির্মল মাজি। তার দুই দেহরক্ষী আহত হয়েছেন। এরপর হামলা থেকে বাঁচতে তিনি মাথায় হেলমেট পরে ভোট পরিস্থিতি দেখতে যান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় বিজেপি প্রার্থী বিধান পাড়ুইকে তৃণমূল সমর্থকরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হুগলির খানাকুলের তৃণমূল প্রার্থী নাজবুল করিম বিজেপি কর্মীদের কাছে মার খেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট, মন্দিরবাজার, ক্যানিংয়ে তৃণমূল ও সিপিএমের সহযোগী দল আইএসএফ সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মগরাহাট পশ্চিমের আইএসএফ প্রার্থী মইদুল ইসলামের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লার বচসা হয়। আইএসএফ বোমাবাজি করছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ তুলে রাস্তায় ধরনায় বসেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। মন্দিরবাজারে অভিযোগ ওঠে আইএসএফ সমর্থকরা গুলি চালিয়েছে।

এদিকে কলকাতায় আট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগককে তারা গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের উলুবেড়িয়ায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে একাধিক ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সেক্টর অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দীঘিতে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে ১ হাজার টাকা পাওয়া যাবে এমন কুপন বিলির অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।