বিশ্বব্যাপী বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আইএমএফের

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৮

করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। অর্থনীতি ঘুড়ে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও বড় অনিশ্চয়তা দেখছে সংস্থাটি। গতকাল প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির এক বছর পার হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হলেও উত্কণ্ঠা কমছে না। করোনার প্রভাবে উদীয়মান এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যমেয়াদে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে পর্যটন, নিত্যপণ্যের রপ্তানি এবং সীমিত নীতিসহায়তার কারণে দেশগুলো বেশি ভুগবে। ২০২০ সালে আয় কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্যসীমায় নতুন করে যোগ হয়েছে সাড়ে ৯ কোটি মানুষ। তাছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষতি তুলনামূলক বেশি। শিক্ষাখাতে এই ক্ষতি পরবর্তী সময়ে আয় বৈষম্য আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

প্রতি বছর এপ্রিলে ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। এরপর ত্রৈ-মাসিক ভিত্তিতে হালনাগাদ পূর্বাভাস দেওয়া হয়। গত অক্টোবরের পূর্বাভাসের চেয়ে এবার বাড়িয়ে নতুন পূর্বাভাস দিল সংস্থাটি। ২০২০ সালে বিশ্বঅর্থনীতির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচনের পর এবছর ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। তবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং দেশে দেশে বৈষম্য কমাতে আরো উদ্যোগ নিতে হবে।

সংস্থাটির হিসাবে ২০২২ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়বে বলে আশা করা হয়েছে। গতবছর সারা বিশ্বই অর্থনৈতিক সংকোচন দেখেছে। যদি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ না থাকত সেক্ষেত্রে এই ক্ষতির পরিমাণ তিনগুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে পরের বছর অর্থাত্ ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারতে গতবছর ৮ শতাংশ সংকোচনের পর এবছর সাড়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়েছে। এবছর শেষ নাগাদ, নেপালে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪ শতাংশ, পাকিস্তানে দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ভুটানে ১ দশমিক ৯ শতাংশ সংকোচন হতে পারে। সবমিলিয়ে উদীয়মান দেশগুলোর গড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতির ভালো পূর্বাভাস দিলেও এতে উচ্চ ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি। ভবিষ্যত্ উন্নয়ন নির্ভর করছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংকট কোন দিকে যাচ্ছে তার ওপর। করোনার নতুন ধরন প্রকাশ পাওয়ায় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেজন্য যে কোনো দেশে যে কোনো সময় নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে প্রবৃদ্ধির এই প্রত্যাশাও কমতে পারে বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ।

এবারের পূর্বাভাস প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, ইউরোপে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, জাপানের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, রাশিয়ার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।