টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস-সংকটে মিল-কারখানায় উত্পাদন বন্ধ হয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। তীব্র গ্যাস-সংকটে বিদেশি বায়ারদের অর্ডার পর্যন্ত বাতিল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালিকপক্ষ। একদিকে মহামারি করোনার থাবা, অন্যদিকে দীর্ঘ দিন ধরে গ্যাস-সংকটে মিল-কারখানা বন্ধ থাকায় কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হতে চলেছেন বলে শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও মালিকপক্ষ কোনো সুফল পাচ্ছেন না। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাগণ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, কমপ্রেসারের মূল পাইপে গ্যাসের চাপ না থাকায় ও বিভিন্ন স্থানে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হওয়ায় গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে।
মঙ্গলবার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা মো. আশরাফ খান ও ফিরোজ হায়দার খানসহ একাধিক শ্রমিক সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসংলগ্ন গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট-বড় মিলে শতাধিক মিলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানার উত্পাদন মূলত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কারখানায় প্রায় ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক চাকরি করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরে এসব শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ না থাকায় উত্পাদন শূন্যের কোঠায় নেমে মিল বন্ধ হয়ে শ্রমিকদের চাকরি হারাতে হচ্ছে। এছাড়া মালিকপক্ষও শত শত কোটি টাকার লোকসানে বলে জানিয়েছেন কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকগণ।
এ ব্যাপারে নাহিদ কটন মিলস এবং ডেলসি কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. শহিদুল আলম বলেন, গোড়াই শিল্প এলাকায় ৫০ পিএসআইজি লাইনে গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। চার-পাঁচ বছর আগে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ছিল ৪ টাকা ১৮ পয়সা। দফায় দফায় দাম বাড়ানোর ফলে বর্তমানে দাম হয়েছে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। গ্যাসের দাম ৩০০ শতাংশ বাড়ানো হলেও সেবার মান একটুকুও বাড়েনি। গ্যাস-সংকটে উত্পাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে তাদের কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। উত্পাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তারা বিষয়টির দিকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে মালিকপক্ষ শত শত কোটি টাকার ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত প্রায় ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে বেকার হতে যাচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন উত্তরা স্পিনিং মিলস, টেকনো স্পিনিং মিলস, কম্পিট কম্পোজিট, সাইথ ইস্ট টেক্সটাইল ও নিউটেক্স গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকগণ।
এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস কোম্পানির টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. আজগর আলী বলেন, কমপ্রেসারের মূল লাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় এবং বিভিন্ন স্থানে রক্ষণাবেক্ষণর কাজের ফলে পাইপে গ্যাসের চাপ কম হচ্ছে। গোড়াই এলাকার শিল্প মালিকদের অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
