মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুস সালামের বাস ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় মেয়রের চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার ড্রইং রুমে প্রচ্ল শব্দে এ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এটি বোমা না অন্য কিছুর বিস্ফোরণ, এ ব্যাপারে তাত্ক্ষনিকভাবে কোন দায়িত্বশীল সূত্র কিছু জানাতে পারেনি।
বিস্ফোরণে মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম, চারজন কাউন্সিলরসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। কানন বেগমের শরীরের ৬০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। রাতেই চিকিত্সকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করিয়েছেন। আহত অন্যরা হলেন মীরকাদিম পৌরসভার সচিব সিদ্দিকুর রহমান (৩৮), ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন (৪০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দীন ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল মিয়া, পৌরসভার প্রকৌশলী পান্না হাওলাদার (৫৫), যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম (২৮), পৌর মেয়রের বডিগার্ড হোসেন কালু (৪৫), পৌরসভার চাকরিজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫), মুদি দোকানি মাইনুদ্দিন (৪৫), মোশাররফ হোসেন (৪২) ও রবিন (২৭)। বিস্ফোরণে মেয়র নিজেও সামান্য আহত হয়েছেন।
পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রহিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা মেয়রের বাড়ির তৃতীয় তলায় ড্রইং রুমে বসেছিলাম। মেয়র, তিন জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ১৪-১৫ জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাত ৯ টার দিকে পৌরসভার প্রহরী মনির হোসেন কাগজপত্র নিয়ে ড্রইং রুমে আসেন। ড্রইং রুমের দরজায় মেয়রের স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমরা মেয়রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। হঠাত্ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহুর্তেই কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চার কাউন্সিলরসহ অন্তত ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান মুন্সীগঞ্জ ডিবির একটি টিম। তারা সেখান থেকে বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করেন। ডিবির ওসি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আলামত পরীক্ষার পরই বলা যাবে এটি কী ধরনের বিস্ফোরণ ছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা বলা যাচ্ছে না। তদন্ত না করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
