মিয়ানমারে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৭

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৪

মিয়ানমারের দুইটি শহরে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে সাত জন নিহত ও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে। এদিকে বুধবার দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে একটি চীনা কারখানায় অগ্নিসংযোগেরও ঘটনা ঘটে এবং বিক্ষোভকারীরা এদিন চীনের পতাকাও পুড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং বুধবার বলেছেন, আইন অমান্য আন্দোলন মিয়ানমারকে ‘ধ্বংস করে দিচ্ছে’।

গণতান্ত্রিক সরকারকে উত্খাত করে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে টালমাটাল মিয়ানমার বুধবার পর্যন্ত ৫৮০-র বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু দেখেছে বলে জানিয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স। ১ ফেব্রুয়ারির ঐ অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন উপেক্ষা করেই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার বিক্ষোভ ও ধর্মঘট হয়েছে। বুধবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালেতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

 প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম কালেতে একাধিক বার গুলিবর্ষণ ও হতাহতের খবর দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম মিজ্জিমা ও ইরাবদী উত্তর-পশ্চিমের এ শহরে গুলিতে অন্তত পাঁচ জন নিহত ও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে তারা কালেতে বিক্ষোভে গুলি ও হতাহতের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারেনি। একই দিন ইয়াঙ্গুনের কাছে বাগো শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও।

এদিকে ইয়াঙ্গুনে চীনা একটি পোশাক কারখানায় আগুন লাগার খবর দিয়েছে মিয়ানমারের দমকল বিভাগ। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ইয়াঙ্গুনের আরেক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের চীনের পতাকায় আগুন দেওয়ার ছবি ফেসবুকেও এসেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটির অনেকেই ক্ষমতাসীন জান্তাকে চীনের সমর্থনপুষ্ট মনে করে; গত মাসে ইয়াঙ্গুনে চীনের বিনিয়োগ করা ৩২টি কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।

বুধবার এক বিবৃতিতে সামরিক জান্তার প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, আইন অমান্য আন্দোলনের কারণে হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, বিভিন্ন দপ্তর ও কারখানা স্থবির হয়ে আছে। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছে, কিন্তু সেখানে (বিক্ষোভকারীরা) ব্যবসার ক্ষতি করছে না। আইন অমান্য আন্দোলন হচ্ছে দেশ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ড।’