পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা
সুন্দরবন উপকূলবর্তী খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় কয়েক বছর আগেও প্রান্তর জুড়ে ছিল লবণ পানির চিংড়ির আবাদ। অব্যাহত লোকসানের মুখে পর্যায়ক্রমে লবণ পানি বন্ধের পর শুরু হয়, তিল ও মুগ চাষ। তবে উপজেলার গড়ইখালী ও দেলুটি অঞ্চলের এসব জমিতে একটি ফসলের পর বছরের বাকিটা সময় পতিত অবস্থায় অনাবাদি থাকত। গত কয়েক বছরে অতিবৃষ্টির কারণে লোকসানের মুখে কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিল চাষ বাদ দিয়ে কৃষকরা ঝুঁকে পড়েন তরমুজ চাষে। উত্পাদনের পাশাপাশি দাম ভালো পাওয়ায় এরই মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে তরমুজের আবাদ। গত বছর যেখানে আবাদ হয়েছিল সাড়ে ৫০০ হেক্টর এবার সেখানে আবাদ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে।
কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর উপজেলার দেলুটিতে ১ হাজার এবং গড়ইখালী ১০০ হেক্টর এবং কপিলমুনিতে পরীক্ষামূলকভাবে ১ একর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। তরমুজচাষি দেলুটি ইউনিয়নের কালীনগরের পরিতোষ, সেবনেরবেড়ের হিরণ্ময় ও গোপীপাগলা গ্রামের প্রহ্লাদ এবং গড়ইখালী ইউনিয়নের আমিরপুরের মিল্টন, বাইন বাড়িয়ার বীরেন্দ্রনাথ, কুমখালীর দিলীপ ঢালী, হোগলার চক গ্রামের মলয়সহ অন্যরা জানান, চলতি মৌসুমে একদিকে বৃষ্টি না হওয়া অন্যদিকে মিষ্টিপানির অভাবে এবার খেতে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছে না তারা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, এ উপজেলায় ব্যাপকহারে ড্রাগন, পাকিজা, বীগ ফ্যামিলি, কালো মানিক জাতের তরমুজ চাষ হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু রায়সহ অন্যরা জানান, গত বছর এ উপজেলায় তরমুজ চাষ হয়েছিল ৫১০ হেক্টর জমিতে। এ বছর চাষ হচ্ছে তার দ্বিগুণ। এমনকি কপিলমুনির কাশিমনগর এলাকায়ও এবার এক একর জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ হয়েছে তরমুজ।
ইউপি সদস্য সেফালি মণ্ডল উদ্যোক্তা হিসেবে এই আবাদ শুরু করেছেন। ধারণা করছেন, আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশে ফলন ভালো হওয়ায় এলাকায় আগামীতে আরো বাড়বে তরমুজের আবাদ। পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তরমুজের বাম্পার ফলন হবে। কৃষক তাদের উচ্চ মূল্যের ফসল যাতে লাভজনক অবস্থয় ঘরে তুলতে পারে সেজন্য কৃষি বিভাগ সব সময়ই সহযোগিতা করছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
