ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের বিপাকে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা!

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪১

করোনার প্রভাব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর শুঁটকিপল্লির ব্যবসায়ীরা করোনার কারণে ফের বিপাকে পড়েছেন। আবারও করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে। গত বছরও করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা না হওয়ায় মজুত করা শুঁটকি নষ্ট হয়ে অন্তত ১২ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। যদিও মহামারির প্রভাব কাটিয়ে গত ডিসেম্বর মাস থেকে স্বাভাবিক হয়ে উঠছিল লালপুর শুঁটকিপল্লি। চলতি বছর বিক্রির জন্য প্রায় শতাধিক কোটি টাকার শুঁটকি মজুত করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামটিতে শতবছর ধরে শুঁটকি তৈরি হওয়ায় গ্রামটিকে এখন শুঁটকিপল্লি হিসেবে চেনেন সবাই। এ পল্লির কয়েক শ পরিবার শুঁটকি তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। লালপুর শুঁটকিপল্লিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ী আছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ এনে প্রক্রিয়াজাত করে শুঁটকি তৈরি করা হয় এখানে। শুঁটকিগুলো গ্রামের মেঘনা নদীর পাশে মাচায় শুকানো হয়। বর্তমানে আকার ও মানভেদে এই পল্লি থেকে প্রতি কেজি পুঁটি শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ১০০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, চান্দা ৩৫০-৪৫০ টাকা, গইন্না ৩০০-৬০০ টাকা, বুজুরি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং তারাবাইম শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১১০০ টাকা পর্যন্ত দামে।

লালপুর শুঁটকিপল্লির ব্যবসায়ী বিমল দাস বলেন, ‘বছরে আমি ১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শুঁটকি বিক্রি করতে পারি। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে আমাদের পল্লি থেকে শুঁটকি নিয়ে যান। করোনার কারণে মজুতকৃত শুঁটকি নষ্ট হয়ে কয়েক লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে আবারও শুঁটকি বেচাকেনা শুরু হয়েছিল। এখন আবারও করোনার প্রকোপ বাড়ায় আমরা মজুত করা শুঁটকি নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

লালপুরে আরেক শুঁটকিপল্লির ব্যবসায়ী নারায়ণ দাস বলেন,  ‘করোনা ভাইরাসের সময় বেচাকেনা না হওয়ায় গুদামে মজুত করে রাখা বিগত বছরের অধিকাংশ শুঁটকি নষ্ট হয়ে যায়। এতে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীকেই লোকসান গুনতে হয়েছে। কিন্তু এখন করোনার যে হাল দেখছি, যদি টানা লকডাউন চলে তাহলে আমরা বিপর্যয়ে পড়ব।’ আশুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, লালপুর শুঁটকিপল্লির করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আগে সহায়তা করা হয়েছিল। এখন ক্ষতিগ্রস্তরা যোগাযোগ করলে তাদের সহায়তার চেষ্টা করা হবে।