নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
অনাবৃষ্টিতে তীব্র খরায় মরে যাচ্ছে ফটিকছড়ি উপজেলার ১৭টি ছোট-বড় বাগানের চা-গাছ। গাছে নতুন কুঁড়ি বা পাতা গজানো দূরে থাক, খরার তীব্রতায় গাছের পুরোনো পাতাগুলোও শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। গাছও শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সবুজ বাগানগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাগানগুলোর নতুন প্লান্টেশনের চারাগাছ (ইয়ং টি) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ফটিকছড়িতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১ দশমিক ৬৯ মিলিমিটার। অথচ এ বছর এখনো বৃষ্টির ছিঁটেফোঁটারও দেখা মেলেনি। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, খরা পরিস্থিতি এভাবে আর কিছুদিন অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবার চায়ের উত্পাদনে চরম ধস নামবে। ফটিকছড়ি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি চা-বাগানের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি বাগানে রয়েছে নিজস্ব সেচব্যবস্থা। জানা যায়, প্রচণ্ড খরায় বাগানের জলাশয়ও শুকিয়ে গেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পাম্পের মাধ্যমেও পানি তোলা যাচ্ছে না। গত নভেম্বর মাস থেকে অদ্যাবধি বৃষ্টি হয়নি এ অঞ্চলে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ খরায় সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে নতুন প্লান্টেশনে রোপণ করা চারা গাছ (ইয়ং টি) এবং বাগানের নার্সারির চারার। এছাড়া ক্লোন গাছগুলোও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ এ গাছগুলোর শিকড় নিচের দিকে বেশি দূর যায় না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ গাছগুলো শুকিয়ে মরে যাচ্ছে।
রামগড় চা-বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘রামগড় বাগানে ভূগর্ভস্থ সেচ লাইন থাকলেও জলাশয়ের পানি প্রায় শুকিয়ে গেছে। এছাড়া খরার তীব্রতা যান্ত্রিক সেচের মাধ্যমে মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন উত্পাদনের চেয়ে বাগানের গাছগুলো বাঁচানোর জন্য লড়াই করা হচ্ছে।’ ব্র্যাকের মালিকাধীন কর্ণফুলী বাগানের ডিজিএম মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাসের অধিক সময় ধরে চলা অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় বাগানগুলোর প্রায় ২৫ ভাগ ইয়ং টি গাছ রোদে শুকিয়ে মরে গেছে।’ নেপচুন বাগানের জিএম কাজী ইরফান উল্লাহ বলেন, ‘অনাবৃষ্টির কারণে শুধু উত্পাদন হ্রাস পাবে তা নয়, চায়ের গুণগত মানও ক্ষুণ্ন হবে।’ চট্টগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘অনাবৃষ্টিতে খরার কারণে কৃষির পাশাপাশি চা-শিল্পও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবার চায়ের উত্পাদন অন্যান্য বারের চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
