সালথায় তাণ্ডবে আহত আরেক জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৩

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় একটি মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে তাণ্ডবের ঘটনায় মিরান মোল্লা (৩৫) নামে আহত আরো এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজাপুরুরা গ্রামের আব্দুর রব মোল্লার ছেলে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাওয়াল     ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া। এর আগে এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন নামে এক যুবক নিহত হন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, উপজেলা পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও থানা এলাকায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে। এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১২ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, এ ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর একটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে। অপর কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম মোল্লাকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে পুলিশের গুলিতে কয়েক জনের মৃত্যু এবং স্থানীয় হেফাজত নেতাকে গ্রেফতারের গুজব ছড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও থানায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এ সময় ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, ধ্বংসযজ্ঞ শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকার অবস্থা এখনো থমথমে। টানা তিন ঘণ্টা তাণ্ডবে লন্ডভন্ড উপজেলা পরিষদ এলাকা। উপজেলা সদরের বাতাসে পোড়া গন্ধ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাচ আর আসবাবের টুকরা। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম আলী বলেন, সোমবার রাতে চালানো তাণ্ডবের ঘটনা এখনো চোখে ভাসছে। আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সালথা দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হলেও এমন ঘটনা কখনো ঘটতে দেখিনি।