দেবীদ্বারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় পাঁচ মাস পর এক নারীর পেট থেকে বের করা হলো অপারেশনের সময়কার রক্ত মোছার গজ (মপ)! এই দীর্ঘ সময়ে গজটি ঐ নারীর পেটের নাড়ি ছিদ্র করে ঢুকে পড়ে নাড়িতে পচন ধরে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার ফিশার-সংলগ্ন বড় আলমপুর রাস্তার মাথায় আল ইসলাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঐ নারীর অপারেশন হয়।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চিকিত্সক অপারেশন করে আস্ত গজ (ব্যান্ডেজ) বের করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, ঘটনাটি পাঁচ মাস আগের। এরপর রোগীর স্বজনেরা আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি। এ ঘটনায় আমরা অনুতপ্ত।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ঐ নারীর নাম মোসা. শারমিন আক্তার (২৫)। তিনি মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী। দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের সময় সিজার করা হয়। ভুক্তভোগীর বড় ভাই রহুল আমিন জানান, পাঁচ মাস আগে আল ইসলাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হলে চিকিত্সক রোজিনা আক্তার তাকে দেখে জরুরি সিজার করানোর পরামর্শ দেন। ডাক্তারের কথা শুনে সিজারে রাজি হলে ঐ দিনই ডাক্তার রোজিনা আক্তার ও ডা. শামীমা আক্তার লিন্টা সিজার করেন। অপারেশনের দুই দিন পর থেকে শারমিনের পেটে ব্যথা হতে থাকে। সাত দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর অপারেশনের ক্ষত থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে তাকে কুমিল্লাসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা অ্যান্টিবায়োটিক খেতে দেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গাইনি চিকিত্সক ডা. রোজিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে রক্তাক্ত গজ বের করা হয়। বর্তমানে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। চার-পাঁচ দিন গেলে অবস্থা বোঝা যাবে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক এবং কোন হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে তা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
