বাংলাদেশ জার্মান চেম্বারের ওয়েবিনার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে সুপারিশ পেয়েছে। ফলে আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। তার তিন বছর পর থেকে অর্থাত্ ২০২৯ সাল থেকে ইউরোপের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারাতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিএসপি প্লাসের আওতায় প্রধান রপ্তানি পণ্যে শুল্কমুক্ত কিংবা স্বল্পশুল্কে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ লক্ষ্যে ইউরোপের চাহিদার আলোকে শ্রম অধিকার রক্ষাসহ অন্যান্য ইস্যুতে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শও তাদের। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটি) কিংবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করার ক্ষেত্রে যথাযথ হোমওয়ার্ক করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। গত বুধবার রাতে বাংলাদেশ জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিজিসিসিআই) আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) তারা এসব কথা বলেন। বিজিসিসিআই সভাপতি ওমর সাদাতের সভাপতিত্বে এতে অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস ইস্যুতে সঠিক সময়ে যথাযথ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে রপ্তানি পণ্যে বিপুল পরিমাণ শুল্কের মুখে পড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্য ইউরোপের প্রবেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও তখন আট শতাংশের ওপরে শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক পণ্যে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিযোগী ভিয়েতনাম বর্তমানে ইউরোপে শুল্ক পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কারণে তারা ধীরে ধীরে শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানি করতে পারবে। ফলে বাংলাদেশের পণ্য ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। রপ্তানির গতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ তাদের।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, পোশাক খাতের নেতা ফারুক হাসান, ফজলুল হক, জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ডব্লিওটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
