ঈশ্বরদীতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুকুল না আসায় বিশেষ করে বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন ৩০ শতাংশ কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মোজাফ্ফর জাতের লিচু আগের মতোই ফলন হবে বলে লিচুচাষি ও কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে লিচুর ফলন কম হওয়ায় লিচু চাষের সঙ্গে জড়িত কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলার মানিকনগর গ্রামের বাগানমালিক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার তিন বিঘা জমিতে লিচুবাগান রয়েছে। গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় প্রায় ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু এবার অর্ধেকেরও বেশি মুকুল আসেনি। গতবারের চেয়ে অর্ধেক টাকার লিচু বিক্রি করতে পারব কি না, এ নিয়ে সংশয়ে আছি। লিচু চাষে জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক কিতাব মণ্ডল ওরফে লিচু কিতাব বলেন, বিগত বছরগুলোতে যে বাগান থেকে ৭ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয়েছিল, এবার মুকুল না আসায় মাত্র ১ লাখ টাকার বেশি লিচু বিক্রি করা যাবে কি না, সন্দেহ রয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, লিচু ঈশ্বরদীর অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। ফলন্ত প্রতিটি গাছে ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত লিচু ধরে। গত বছর ঈশ্বরদী উপজেলায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার অতিরিক্ত আরো প্রায় ২০০ হেক্টর জমি লিচু আবাদের আওতায় এসেছে। এখানে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন লিচু উত্পাদন হয়। কিন্তু এবার জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বোম্বাই জাতের লিচুর মুকুল ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি জানান, সাধারণত জানুয়ারি মাসের শেষে এবং ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমে বোম্বাই লিচুর গাছে মুকুল আসে। কিন্তু এবারে মধ্য জানুয়ারি থেকে হঠাত্ করে শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় মুকুল কম অঙ্কুরিত এবং বেশি পরিমাণ পাতা গজিয়েছে। তবে মোজাফ্ফর জাতের লিচুর মুকুল জানুয়ারির প্রথম দিকে আসায় এই জাতে কোনো সমস্যা হয়নি। লিচুর মুকুলে রোগব্যাধি কম, সামনের মাসটিতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন বিপর্যয় থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।
