নিহত নারীর পরিচয় মিলেছে

লাশের কার্টনে থাকা মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে হত্যাকারী শনাক্ত

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৫

 ‘রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটওভারব্রিজের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেয়েটি। রাত ১১টার দিকে ঐ পথ দিয়ে বাসায় ফেরার পথে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে মেয়েটি আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি হয়ে তাকে মেসে নিয়ে যাই তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য। শারীরিক সম্পর্কের পূর্বে কথা অনুযায়ী তাকে ৪০০ টাকা দেই; কিন্তু মেয়েটি আমার কাছে তাত্ক্ষণিক দেড় লাখ টাকা দাবি করে। এই কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। দেড় লাখ টাকা না দিলে থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় ঐ মেয়ে। আমি ভয় পেয়ে যাই। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মেয়েটির গলা চেপে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।’

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এক নারীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আবু জিয়াদ রিপন নামের যুবক এভাবেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গত ৩ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানার আসাদগেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ভাসানটেক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রেফতার রিপন ঐ নারীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

লাশের কার্টনের একটি নম্বরের সূত্র ধরে খুনি শনাক্ত : ৩১ মার্চ রাত ৮টা। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় অর্ডারের মাল ডেলিভারি দেয় আবু জিয়াদ রিপন। সেখান থেকে ফেরার সময় নাজমা নামের ঐ নারীকে তার অনলাইন ব্যবসা মেঘা এশিয়া স্কাইশপ অফিসের বাসায় নিয়ে যায়। তখন বাসায় আর কেউ ছিল না। সেখানে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে নাজমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রিপন। এরপর লাশ বস্তাবন্দি করে কার্টনের ভেতরে রেখে স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে পার্শেলের মতো বাক্স তৈরি করে। এরপর বাসা থেকে কার্টনটি কাঁধে নিয়ে রিকশায় মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে ফাঁকা জায়গায় সেটি নামায়। এরপর রিকশাওয়ালা তার কাছ থেকে ভাড়ার ৭০ টাকা নিয়ে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে রিপনও লাশ ভর্তি কার্টনটি ফেলে রেখে চলে যায়।

ভাষানটেক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১ এপ্রিল সকালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনের রাস্তায় কার্টন ভর্তি অজ্ঞাত পরিচয় মহিলার লাশ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর নিহতের মা থানায় এসে ছবি দেখে তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। ঐ দিনই নিহতের মা ভাসানটেক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে এক জোড়া প্ল­াস্টিকের স্যান্ডেল, একটি ভিজিটিং কার্ড, একটি খাকি রংয়ের কাগজের কার্টন উদ্ধার করা হয়। কার্টনের গায়ে একটি মোবাইল নম্বর (০১৬১০-৫৮২০২০) লেখা ছিল।

তিনি বলেন, কার্টনের গায়ে লেখা মোবাইল নম্বরের সূত্রধরে তদন্ত শুরু করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঐ মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী ফিরোজ আল আনামকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানা এলাকা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে মিরপুর থানার পশ্চিম কাজীপাড়া এলাকায় অনলাইন ব্যবসা ‘মেঘা এশিয়া স্কাইশপ’ অফিসের আশপাশে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় ছেলেটি কাঁধে করে একটি কার্টন নিয়ে এসে রিকশাযোগে চলে যায়। ঐ ভিডিও ফুটেজ দেখে ফিরোজ ছেলেটিকে অনলাইন ব্যবসার ডেলিভারি বয় রিপনকে শনাক্ত করে। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর আসাদগেট এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেফতার করা হয়।