টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ডান চোখের পরিবর্তে বাম চোখ অপারেশন করেছেন চিকিত্সক। তবে ভুল চিকিত্সা হলেও ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরবর্তীকালে বিনামূল্যে ডান চোখ অপারেশন করা হয়। তবে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে রোগীর স্বজনদের চাপ প্রয়োগ করেছে ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত চক্ষু হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. ফারুক হাসানের দাবি হাসপাতালের টেকনিশিয়ানের ভুলে এমন ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের হরিষা গ্রামের সুফিয়া বেগম (৬৫) গত মার্চে ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারুক হাসানের কাছে চোখের চিকিত্সা নিতে যান। পরে চিকিত্সকের দেওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার ডান চোখে ব্লক নির্ণয় করা হয়। পরে চিকিত্সক তার চোখ অপারেশনের সিদ্ধান্ত দেন। নির্ধারিত তারিখ অনুসারে ৬ মার্চ তার অপারেশন হয়। তবে ডান চোখের পরিবর্তে বাম চোখের অপারেশন করেন ডা. ফারুক হাসান। অপারেশনের সময় ঐ রোগী আপত্তি জানালেও বাম চোখেই অপারেশন করা হয়। পরে রোগীসহ স্বজনরা ঐ ভুল চিকিত্সার প্রতিবাদ করায় ঐ চিকিত্সক অপারেশনটি ভুল নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন। তখন তিনি রোগীর স্বজনদের জানান, হাসপাতালের ল্যাব টেস্টের রিপোর্টে ভুলবশত বাম চোখে ব্লক দেখানো হয়েছে। এ কারণেই বাম চোখের অপারেশন করা হয়েছে। পরে রোগীর স্বজনরা প্রতিবাদ করলে ভুল চিকিত্সার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরবর্তীকালে ১৬ মার্চ বিনামূল্যে ডান চোখের অপারেশন করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কাউকে না জানাতে চাপ প্রয়োগ করেন।
রোগী সুফিয়া বেগম (৬৫) বলেন, আমার ডান চোখে সমস্যা ছিল। কিন্তু ডাক্তার আমার বাম চোখের অপারেশন করেছেন। অপারেশনের সময়ও বলেছি যে আমার ডান চোখে সমস্যা। কিন্তু ডাক্তার আমার কথা না শুনে বাম চোখ অপারেশন করেন।
ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান সাদিয়া বলেন, টেস্ট রিপোর্টে ডান চোখেই ব্লক দেখানো হয়েছে। এর পরও ডাক্তার বাম চোখ অপারেশন করেছেন। এখন তার ভুল ধামাচাপা দিতে আমার ও রিপোর্টের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।
ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. ফারুক হাসান বলেন, ল্যাব টেকনিশিয়ান ভুলবশত ডান চোখের পরিবর্তে বাম চোখে ব্লক দেখিয়ে রিপোর্ট করেন। এই কারণে বাম চোখের অপারেশন করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করেছে।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মহী উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহবুদ্দিন খান বলেন, অতি দ্রুতই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
