কার্বন ডেটিং

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৫৪

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক

সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

আজ শুক্রবার, ছুটির দিন। বিকেলবেলা নীলকান্তবাবু ছেলেমেয়েদের সাথে করে এসেছেন চা বাগানে, বেড়াতে। সবাই খুব খুশি, বিশেষ করে বিন্দু। বাগানে সুন্দর সুন্দর করে চা গাছগুলো সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে। মাঝে মাঝে বড় আকারের বৃক্ষ চা গাছগুলোকে ছায়া দিচ্ছে। এগুলোকে বলে শেডট্রি। বাগানটির নাম লাক্কাতুরা চা বাগান। সিলেটের বিমানবন্দর সড়কে চৌকিদেখিতে অবস্থিত এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম চা বাগান। প্রতিবছর এই বাগান থেকে পাঁচলক্ষ কিলোগ্রাম চা উত্পন্ন হয়। বাংলাদেশের ১৬৩টি চা বাগানের মধ্যে ১৩৫ টিই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে।

১৮৪৯ সালে ইংরেজ সাহেব হার্ডসন এই বাগানটির গোড়া পত্তন করেন। প্রায় ৩২০০ একর জায়গা জুড়ে এর অবস্থান। এখন অবশ্য কিছুটা জায়গা বেহাত হয়ে গেছে।

লাক্কাতুরা চা বাগানে অনেক ধরনের গাছও রয়েছে। রাবার, আগর, মেন্দা, কাঁঠাল, আমসহ ফলজ, বনজ, ঔষধি বৃক্ষ রয়েছে। নীলকান্তবাবু ছেয়েমেয়েদের এই সব বোঝাচ্ছিলেন।

মেন্দা গাছ আবার কী? কণিকা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে।

মেন্দা একটি ঔষধি গাছ। স্থানীয়ভাবে এর অনেক নাম আছে। যেমন কুকুরচিতা, রাতুনগারুর, কারজিউকি। আবার বৈজ্ঞানিক নাম (Litsea glutinosa) এটি মাঝারি আকৃতির এবং ৫ থেকে ১৮ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। পাতা গুচ্ছাকার, হলুদাভ সাদা, ফল গোলাকার এবং রসালো, পাকলে কালো বর্ণ ধারণ করে। পাখিদের মজাদার খাবার। মান্দা গাছের পাতা কচলে আঠালো রস পেটের পীড়ার জন্য ভালো ঔষধ।

এখন এই গাছ আর নেই? বলল অণু।

এখানে তো আর দেখতে পাচ্ছি না, বললেন নীলকান্তবাবু। এখানে অনেকগুলো শতবর্ষী গাছ ছিল, সেই হার্ডসন সাহেবের হাতে লাগানো ১৮৪৯ সালে।

রেখা বলল-বাবা, গাছের বয়সও কি ইউরেনিয়াম-সীসা ডেটিং এর মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়?

না, বললেন নীলকান্তবাবু। উদ্ভিদ বা প্রাণীর মরদেহের ফসিলের অথবা জীবন্ত উদ্ভিদের বয়স নির্ণয় করা হয় তেজস্ত্রিয়তার যে পদ্ধতি ব্যবহার করে, তার নাম কার্বন ডেটিং। কার্বনের তিনটি আইসোটোপ।

আইসোটোপ মানে? আকাশ বলল।

আইসোটোপ মানে হচ্ছে একই মৌলিক পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, যাদের পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাত্ প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা অর্থাত্ প্রোটন ও নিউট্রনের মিলিত সংখ্যা ভিন্ন। যেমন কার্বন-12, কার্বন-13, কার্বন-14, কার্বন এর এই তিনটি আইসোটোপের ভরসংখ্যা 12, 13 ও 14। কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাত্ প্রোটন সংখ্যা সবগুলোর 6। তাহলে নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 6, 7,ও 8।

এর মধ্যে কার্বন-12 ও কার্বন-13 হচ্ছে সুস্থিত কিন্তু কার্বন-14 হচ্ছে অস্থিতিশীল।