অর্ণারা বাবররোডে এসেছে একমাস হবে। বাড়িটা চারতলা। ওরা উঠেছে দোতলায়। মা খুব খুশি। আগের বাসাটা ছিল পাঁচ তলায়। নামতে-উঠতে খুব কষ্ট হতো। অর্ণার আনন্দ একটা বারান্দা আছে পূর্ব দিকে। আজ অনেক সকালে উঠেছে অর্ণা।
মা অবাক, কিরে ঘুম ভেঙে গেল?
অর্ণা উত্তর দিল না। ও এখন একটা ব্যাপার নিয়ে ব্যস্ত। অর্ণা তাকিয়ে আছে পূর্ব দিকে। সূর্য উঠছে... আলো ছড়াচ্ছে। একটু একটু করে বড় হলো সূযটা। বিরাট গোলাকার সূর্য। অর্ণা ভাবল, এখনো তো আগের মতোই সূর্য ওঠে। বারান্দা থেকে ঘরে এলো অর্ণা। ছোট বোনটা অঘোরে ঘুমুচ্ছে। ওদের বাড়ির সামনে একটা বাগানবিলাস আলো করে দাঁড়িয়ে আছে। খুব শান্তি লাগে অর্ণার।
অর্ণা দেখল ওদের ঘরের জানালার পাশে চড়ুই পাখি বাসা করেছে। আগের বাসাতেও চড়ুই পাখির বাসা ছিল। পাখিরা এখনো এভাবে বাসা করে। অর্ণার মন খুশিতে ভরে ওঠে। হাসে খিলখিল করে।
মা জিজ্ঞেস করে, কিরে এত হাসছিস কেন?
অর্ণা বলে, পরে বলব মা।
মা বলল, পাখির বাসাটা খুব নোংরা করছে ঘরটা। ভাঙতে হবে।
অর্ণা ছলছল চোখে বলল, না মা ও কাজটা কোরো না। পাখিরা খুব ভালো। কারো ক্ষতি করে না।
এখন অর্ণারা কোথাও যায় না। স্কুলও বন্ধ। অনলাইনে ক্লাশ হয়। ভালো লাগে না অর্ণার। বাসাতে বন্দিজীবন যাপন করছে। একঘেয়ে জীবন। চারিদিকে করোনা তাণ্ডব চালাচ্ছে। কতদিন চালাবে কে জানে!
সন্ধ্যা হয়েছে কিছু আগে। অর্ণা বারান্দায় এলো। অর্ণা দেখল চাঁদ উঠেছে। কী সুন্দর বিরাট গোল চাঁদ। আজ কি পূর্ণিমা?
অর্ণা ভাবে, শুধুই ভাবে—সূর্য উঠছে আগের মতো, চাঁদও উঠছে। প্রকৃতি আগের মতোই আছে। পাখি ডাকছে। ফুল ফুটছে। তাহলে মানুষ কী সমস্যা করছে? মানুষই পারে করোনাকে নির্মূল করতে। অর্ণার চোখে জল। অর্ণা কেঁদে কেঁদে বলে, মানুষ তোমরা ভালো হয়ে যাও। তোমাদের বুদ্ধি আছে বিবেক আছে। পৃথিবীকে সুন্দর করে তোলো।
