ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় গরম বাতাসে (হিট শক) পশ্চিমের জেলাগুলোতে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ধানের শীষ সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরে ৬৪ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১১৭ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ৩৯৬ হেক্টরে, মাগুরায় ৩০৩ হেক্টরে এবং কুষ্টিয়া জেলায় ১০৬ হেক্টরে বোরো ধান হিট শকে ক্ষতি হয়েছে। তবে মেহেরপুর জেলায় মাত্র এক হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার খাঁ। তবে চাষিরা জানিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হবে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের চাষি করম আলি শেখ বলেন, তার তিন বিঘা জমিতে সবে শিষ বের হয়েছিল। ফুল ধরেছিল। হঠাত্ গত ৪ এপ্রিল বিকালে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সময় কিছুক্ষণ গরম বাতাস ছিল। দুই দিন পর দেখা গেছে, ধানের শিষগুলো সাদা হয়ে যাচ্ছে, ভেতরে দুধ নেই। চিটা হয়ে গেছে। একই কথা বলেন, ফরম আলিসহ অন্য কৃষকরা। কোটচাঁদপুর উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের চাষি আসলাম আলি জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে বাসমতি ধানের চাষ করেন। সবে শিষ বের হয়েছে। কিন্তু ৪ এপ্রিলের ঝড়ের সময় কিছুক্ষণ গরম বাতাস বহে। পরদিন দুপুরে মাঠে গিয়ে দেখেন ধান গাছ সাদা হয়ে যাচ্ছে। ধানের ভেতরে দানা নেই। রুদ্রপুর গ্রামের মাঠে প্রায় সব চাষির খেতে একই অবস্থা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহেদুল আমিন বলেন, এবার পশ্চিমের ছয় জেলায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫ হেক্টরে বোরো চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার হেক্টর বেশি। ফসলের অবস্থা ভালো ছিল। আগাম চাষ করা ধান কাটাও শুরু হয়েছে। অধিকাংশ ধানে শীষ বের হয়েছে। কিন্তু হিট শকের কারণে ধানের এ অবস্থা হয়েছে। শিষ বের হওয়ার সময় ধান ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। ঝড়ের সময় গরম বাতাসে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এতে হিট শকে সদ্য বের হওয়া ধান গাছ সাদা হয়ে যাচ্ছে। ধানে চিটা হচ্ছে। তিনি বলেন, গরম বাতাস ধান গাছ ও শিষে থাকা পানি শুষে নেয়। এ সময় জমিতে পানি থাকলে এ অবস্থা হতো না। তিনি ৬০ গ্রাম এসওপি সার, ৬০ গ্রাম থিয়োভিট ও ২০ গ্রাম জিংক ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে পাঁচ শতক জমিতে স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চাষিদের।
চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, চিতলমারীর সাতটি ইউনিয়নে হিটশকে ২০০ হেক্টর জমির ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ এর দ্বিগুণ বলে দাবি করেছেন, স্থানীয় কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় হঠাত্ কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বয়ে যাওয়া ঝড়ো গরম বাতাসে কৃষকদের খেতে ধানের শিষ শুকিয়ে গেছে।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতু রাজ সরকার বলেন, উপজেলায় ১১ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। হিটশকে ২০০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। আমরা কৃষকদের পরিমিত সেচ ও যৌক্তিক পটাশ সার স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি।
