নানা সমস্যায় ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

পূর্ণাঙ্গ বন্দর হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা ও সবধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ না থাকায় ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দর সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে ভোমরা বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর ২০১৫ সালের মে মাসে ভোমরা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর দুটি ওয়্যারহাউজ, ওয়েব এক্সেল, ওয়াচ টাওয়ার ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু ভোমরা শুল্ক স্টেশনটির কার্যক্রম এখনো পরিচালিত হচ্ছে কয়েকটি জরাজীর্ণ ভবনে। ফলে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রাজস্ব কর্মকর্তাদের। পূর্ণাঙ্গ বন্দর ঘোষণার এত দিন অতিবাহিত হলেও পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অপার সম্ভাবনাময় ভোমরা স্থল বন্দরটি দিয়ে শুধু অল্পসংখ্যক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। অপরদিকে দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে সব পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। ফলে নানাবিধ সমস্যা আর বৈষম্যের কারণে অনেক ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। সব রকম পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ না থাকায় সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনটি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ভোমরা বন্দরের ব্যবসায়ী আবদুল গফুর সরদার জানান, এই বন্দর ব্যবহারে আমাদের পরিবহন খরচ খুবই কম হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই। বেনাপোল বন্দরে আমদানি পণ্য ঢোকার পর ডিউটি দিয়ে তা ছাড় করাতে হয়। আর এখানে আগে ডিউটি পরিশোধ করে তারপর বন্দরে পণ্য ঢোকাতে হয়, যা অন্য কোনো বন্দরে নেই। ফলে ভোমরা বন্দরে এধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়ীদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, ‘ভোমরা বন্দর দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী বন্দর। অথচ সবধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ না থাকায় এ বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘কলকাতা থেকে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব সবচেয়ে কম। মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। অথচ দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলের দূরত্ব ১১৮ কিলোমিটার, সোনামসজিদ বন্দরের দূরত্ব ৩২২ কিলোমিটার ও হিলি বন্দরের দূরত্ব ৩১৮ কিলোমিটার। তাই ভোমরা বন্দরের দূরত্ব কম হওয়ায় পরিবহন খরচও কম হয়।’

ভোমরা স্থল বন্দরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, ভোমরা বন্দর রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু এই বন্দর  দিয়ে অল্পসংখ্যক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এখানে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আছে এবং আবকাঠামোগত অসুবিধা আছে। এসব সমস্যা দূর হলে এই শুল্ক স্টেশনটি হয়ে উঠতে পারে দেশের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয়ের বন্দর।