সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
শিলাবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েকটি হাওরের বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান কাটার আগ মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার পর প্রায় ১০ মিনিট শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে উচ্চ ফলনশীন জাতের বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ জাতের অন্তত ৬০-৭০ ভাগ ধান ঝরে জমিতে পরে গেছে। পাটের চারারও ক্ষতি হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ধর্মপাশা উপজেলার ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর বোরো জমি চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল ৩০ হাজার ৭৮০ হেক্টর ও দেশি জাতের ৭০ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে চার-পাঁচটা ইউনিয়নের বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে সদর, পাইকুরাটি, সেলবরষ ও সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে বেশি ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর ও পাটের চারা ১৫০ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা, বারহাট্টা এবং মোহনগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সাতপাইকের ভিটা, পাইকপাড়া, কালাকোনা, হিরাকান্দা, বড় সালেঙ্গা, আতকাপাড়া এবং পুটিগাঁও গ্রামের বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে এই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান। এছাড়া পোগলা ইউনিয়নের অ্যাডভোকেট মোস্তফা নুরুল আলম বলেন, কদিন আগে তপ্ত বাতাসে বোরো ধানের ক্ষতির পর হঠাত্ বৃহস্পতিবারের শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের আবার ক্ষতি হলো। এটা কৃষকদের জন্য দুঃসংবাদ। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিলাবৃষ্টি হলেও তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। এর পরেও কৃষি অফিসারদের সরজমিন প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলেছেন।
