কুমিল্লা অঞ্চলের ২৬ বিদ্যালয়ের ১৯টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৮

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের অধিভুক্ত চারটি জেলার (কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ২৬ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। এরমধ্যে ১২টি সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং সাতটি সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) দিয়ে চলছে এসব বিদ্যালয়। এতে প্রশাসনিকসহ নানা কাজকর্মে দেখা দিয়েছে জটিলতা। এতে পদোন্নতি বঞ্চিত সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। একাধিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ও মাউশি-কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাউশি কুমিল্লা অঞ্চলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ৯টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়গুলো হলো—জেলার বরুড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগরের ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হোমনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়িচং সরকারি আনন্দ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও দাউদকান্দির বেগম আমেনা সুলতান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। চাঁদপুর জেলার সাতটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই এমন পাঁচটি বিদ্যালয় হলো—মাতৃপীঠ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়, কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, হাইমচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও হাইমচর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ জেলার হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন আগামী ১০ এপ্রিল অবসরে যাচ্ছেন। লক্ষ্মীপুরের তিনটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রামগঞ্জ এমইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদালয় ছাড়া অপর ছয়টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলো হলো—গভ. মডেল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরনগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কসবা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও কসবা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদালয়। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধান শিক্ষক না থাকা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী প্রধান শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে মাধ্যমিক স্তরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে আছে। এতে পদোন্নতি বঞ্চনার হতাশা নিয়ে অনেকে অবসরে চলে গেছেন, কেউবা যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।’ এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

মাউশি কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক (অ.দা.) রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তাই এ অঞ্চলের অধীন ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র সাতটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আছেন, অপর ১৯টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিধি মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই সেসব বিদ্যালয়ের তালিকা ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পদোন্নতি শুরু হলে এ সমস্যা থাকবে না।’