মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে বন্দিদের রক্ষা করতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। আর গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেই থাকতে হবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে। এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বন্দি চিকিত্সাধীন আছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঐ বন্দি কারাগারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। অন্যরোগের চিকিত্সা করতে গিয়ে হাসপাতালেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ঐ বন্দি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুল রহমান মামুন।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজনদের সাক্ষাত্ গত ৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাত্কার বন্ধ করা হয়েছিল। সেটা এক বছর বহাল ছিল। পরে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হলে গত ১ মার্চ আবার দেখা-সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই কারা কর্তৃপক্ষ কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করে।
তিনি বলেন, পিসিআরে বন্দিদের জন্য টাকা জমা দেওয়া , প্রয়োজনীয় ওষুধ, কাপড় চোপড় প্রদান করতে পারবে স্বজনরা। এছাড়া আগের মতোই নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পারবেন। সেটা ৮ মিনিট থেকে বাড়িয়ে এখন ১০ মিনিট করা হয়েছে।
আইজি প্রিজন আরো বলেন, স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে যে নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলোই অনুসরণ করা হচ্ছে। বাইরে (নতুন বন্দি) থেকে যারা আসছে তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। আর আমাদের স্টাফরা যারা ভেতরে ডিউটি করবে তাদেরকে মাস্ক এবং আনুষঙ্গিক নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কারাগারের ওয়ার্ডগুলোকে জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া পয়েন্টে পয়েন্টে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপর দিকে যারা (বন্দিরা) আদালতে যাচ্ছে কারাগারে আসার পর সম্পূর্ণ ওয়াশ করে ওয়ার্ডে যায়। তিনি বলেন, এখনো বন্দিদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হয়নি। আমাদের স্টাফ ও অফিসারদের মধ্যে বেশ কয়েক জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তারা বাইরে থাকেন। তাদের ব্যাপারেও আমরা সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের স্টাফদের জন্য পর্যন্ত পরিমাণ মাস্ক এবং স্যানিটাইজার কিনেছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্দিদের মধ্যে একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ঐ বন্দি চোখ দেখাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা যায়।
কারা সূত্র জানায়, গত বছর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, বগুড়া, রংপুর ও পঞ্চগড় জেলায় বন্দি ও কারারক্ষী মিলে প্রায় পাঁচ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। মারা গিয়েছিলেন এক বন্দি। আর সারা দেশের কারাগারগুলোতে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন প্রায় ৩০০ জন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুভাস কুমার ঘোষ বলেন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। কারা স্টাফরা যারা ভেতরে থাকেন তাদেরকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সারা দেশে ৬৮ কারাগারে বর্তমানে মোট বন্দির সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজার।
