মিহির রঞ্জন তালুকদার, প্রভাষক
বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ:তোমরা নিশ্চয়ই ভালো আছ। দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তোমাদের পড়াশোনার যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা। তোমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের কোনো প্রশ্ন/সমস্যা থাকলে তোমরা ই-মেইল- [email protected] করতে পারো। সমাধান করার চেষ্টা করবো। বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় আজ দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে থাকছে ডেটা কমিউনিকেশন মিডিয়া/ মাধ্যম নিয়ে আলোচনা।
কমিউনিকেশন মিডিয়া/মাধ্যম: তোমরা যখন বাসা থেকে কলেজে আসো কিংবা কলেজে থেকে বাসায় যাও এই আসা যাওয়া করতে তোমাদেরও কোনো না কোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে হয়। যদি তোমরা হেঁটে আসা যাওয়া করো তাহলে এখানে মাধ্যম/মিডিয়া হচ্ছে পা, আর যদি তোমরা গাড়িতে আসা যাওয়া করো তাহলে এখানে মাধ্যম/মিডিয়া হচ্ছে গাড়ি। তদ্রুপ ডেটা/বার্তা প্রেরণ করতে হলেও মিডিয়া/মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। সেটা ক্যাবল/তার দিয়েও হতে পারে আবার ক্যাবলবিহীনও হতে পারে।
অর্থাত্ যার মধ্য দিয়ে প্রেরক থেকে প্রাপকের নিকট ডেটা ট্রান্সমিশন বা স্থানান্তরিত হয় তাকে ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম বলে।
উপরের আলোচনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম প্রধানত দুই ধরনের। একটি হচ্ছে তার যুক্ত মাধ্যম এবং অপরটি হচ্ছে তারবিহীন মাধ্যম।
তার যুক্ত মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তার/ক্যাবল ব্যবহূত হয় যেমন- টেলিফোন ক্যাবল, কো-এক্সিয়াল ক্যাবল, টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল এবং অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল।
তারবিহীন মাধ্যমের মধ্যে রয়েছে- বেতার/রেডিও তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ এবং ইনফ্রারেড।
মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের মধ্যে আবার রয়েছে- ব্লু-টুথ, ওয়াই-ফাই এবং ওয়াই-ম্যাক্স।
বেতার তরঙ্গ বা রেডিও ওয়েভ:
রেডিও ওয়েভ হলো এক ধরনের তারবিহীন ডেটা ট্রান্সমিশন মিডিয়া, যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সিগনালের মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সমিট করে। সাধারণত ৩ কিলোহার্জ (3KHz) থেকে ৩০০ গিগাহার্জের (300GHz) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ তড়িত্ চুম্বকীয় তরঙ্গকে বলা হয় রেডিও ওয়েভ।
বি:দ্র-ফ্রিকোয়েন্সির একক হচ্ছে হার্জ (Hz)। একটি সিগন্যাল এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করতে পারে তাকে ঐ সিগনালের ফ্রিকোয়েন্সি বলে।
রেডিও ওয়েভ যেহেতু এক ধরনের তারবিহীন মাধ্যম ফলে এর দ্বারা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশেও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকে। তারবিহীন মাধ্যমের মধ্যে রেডিও ওয়েভ হচ্ছে সবচেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যম। ফলে একসাথে বেশি ডেটা পাঠানো যায় না। রেডিও তরঙ্গ বিকিরণ মানব দেহ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
মাইক্রোওয়েভ:এটি একটি হাই প্রিকোয়েন্সি রেডিও ওয়েভ। যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৩০০ মেগাহার্জ (300MHz) থেকে ৩০০ গিগাহার্জ (300GHz) পর্যন্ত । মাইক্রোওয়েভ বাঁকা পথে চলাচল করতে পারে না এমনকি প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে কোনো বাধা থাকলে ডেটা স্থানান্তর সম্ভব হয় না। কিন্তু ব্যান্ডউইথ অনেক বেশি হওয়ায় একসাথে অনেক ডেটা পাঠানো সম্ভব হয়।
মাইক্রোওয়েভ দু‘ধরনের-
টেরিস্ট্রোরিয়াল মাইক্রোওয়েভ
স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ
ইনফ্রারেড: যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৩০০ গিগাহার্জ (300GHz) হতে ৪৩০ টেরাহার্জ (300THz) পর্যন্ত বিস্তৃত তাকে ইনফ্রারেড বলা হয়। খুবই কাছাকাছি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা কমউিনিকেশনে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়। এটি যে কোনো ডিভাইসের সাথে ইন্টিগ্রেটেড অবস্থায় কাজ করতে সক্ষম। বিভিন্ন রিমোট কন্ট্রোলে, কার লকিং সিস্টেমে ইনফ্রারেড সিস্টেম ব্যবহূত হয়।
