সেলুনের দোকানে লম্বা সিরিয়াল। কেউ চুল কাটাবে, কেউবা দাড়ি। অপেক্ষার সময়টা কারো কাটে ফোন টিপে। কারোবা পত্রিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে। তবে এ সময়টায় যদি বই পড়া যেত! নিশ্চয় ভালো হতো। জ্ঞানপিপাসুদের কথা মাথায় রেখে এবার তেমনি একটি সেলুন পাঠাগার গড়ে উঠেছে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে। সৈয়দপুর উপজেলার তুলসীরাম সড়কের পাশেই বিসমিল্লাহ সেলুন। বাইরে থেকে এই সেলুনকে অন্যসব সেলুনের মতোই মনে হবে। কিন্তু ঐ সেলুনের মাঝে একটুকরো পাঠাগার! ব্যতিক্রমী এই সেলুনটি গড়ে তুলে সাড়া ফেলেছেন শাহজাদা ইসলাম। আর তাঁকে এই কাজে সহযোগিতা করেছে সৈয়দপুরের সেতুবন্ধন পাঠাগার।
এই সেলুনে রয়েছে একটি র্যাক। এতে সাজানো রয়েছে বেশকিছু বই। ইতিহাস, সাহিত্য গবেষণা, ধর্মীয় ও মনীষীদের জীবনী। সরেজমিনে দেখা যায়, একজন গ্রাহক চুল কাটাচ্ছেন। বাকিরা বই পড়ছেন। এভাবে কাটছে অপেক্ষমাণ সময়টা।
বিসমিল্লাহ সেলুনে আছে ৫০টির মতো বই। তিনমাস পরপর বই পরিবর্তন করা হয়। গ্রাহকরা চাইলে সেলুনেই সময় নিয়ে বই পড়তে পারেন। প্রয়োজনে বই পড়ে শেষ করার জন্য নিয়ে যেতে পারেন বাড়িতেও। সেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন খাতায় নাম নিবন্ধন করতে হয়। বিসমিল্লাহ সেলুনের স্বত্বাধিকারী শাহজাদাও একজন বইপ্রেমী। কাজের অবকাশে তিনি বই পড়েন এবং অন্যদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন।
২০২০ সালে ২০টি বই দিয়ে যাত্রা শুরু সেলুন পাঠাগারটির। ধীরে ধীরে এই পাঠাগারের পরিধি বেড়েছে। কিছু নিয়মিত পাঠক তৈরি হয়েছে। শিক্ষানুরাগীদের কাছে শাহজাদার এই সেলুন পাঠাগার প্রশংসা কুড়িয়েছে। শাহজাদার সেলুনে গ্রাহক বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়ের পথও সুগম হয়েছে।
শুরু থেকেই ভিন্নধর্মী এই সেলুন পাঠাগার গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর কতৃক নিবন্ধিত সেতুবন্ধন পাঠাগারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সৈয়দপুরের খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিসা বেলপুকুরের সেতুবন্ধন পাঠাগারের সদস্যরাই মূলত এখানে বই দিয়েছে। সৈয়দপুরে আরো কিছু সেলুন পাঠাগার গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
খুরশিদ জামান কাঁকন
