মোজাহেদুল ইসলাম
গত ৫ এপ্রিল সরকার ঘোষিত লকডাউনের আগেরদিন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর প্রেরিত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ই-সার্ভিস শাখা মন্ত্রীপরিষদ বিভাগকে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয় , করোনাভাইরাসজনিত রোগ এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তাতে সফটওয়্যার ও সফটওয়্যার পরিষেবা (আইটিইএস) এবং আউটসোর্সিং খাতকে জরুরি সেবাখাত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সফটওয়্যার, আইটিইএস এবং আউটসোর্সিং কাজে নিয়োজিত কোম্পানিসমূহ খোলা রাখা সম্ভব হবে না। এতে করে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে অনলাইন প্রদত্ত জরুরি নাগরিক সেবাসমূহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং জনসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। এছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার ও আইটি পরিষেবা তথা আউটসোর্সিং কাজে নিয়োজিত তাদের যেহেতু দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করতে হয়, তাদের সেবা প্রদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। এতে একদিকে যেমন রপ্তানি আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে অন্যদিকে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। ফলে সফটওয়্যার ও আইটি পরিষেবা রপ্তানি তথা আউটসোর্সিং কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য লকডাউনের বাধ্যবাধকতা সমগ্রিকভাবে আমাদের অর্থনীতিতে বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এমতাবস্থায় সফটওয়্যার ও আইটি পরিষেবা তথা আউটসোর্সিং রপ্তানি কাজে নিয়োজিত বেসিস-এর সহস্রাধিক কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে সচল রাখার স্বার্থে আইটি খাতকে জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভূক্ত করতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ চিঠি দিয়েছিল।
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’-এর মধ্যে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে বলে শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা বেসিস থেকে সফটওয়্যার ও সফটওয়্যার পরিষেবা (আইটিইএস) এবং আউটসোর্সিং খাতকে জরুরি সেবাখাত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনেক আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইসিটি ডিভিশিন, কেবিনেট ডিভিশনকে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগও আমাদের আবেদন ইতিবাচকভাবে নিয়েছে এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় এখন আর লকডাউন নেই তাই তাদের কাজগুলো আমরা না করতে পারলে তা ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনের মতো দেশে চলে যাবে। আমাদের অসংখ্য শিক্ষিত যুবকরা বেকার হয়ে পড়বে। অর্থনীতিতে পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব। আমাদের এখনকার সব কাজই হচ্ছে ইন্টারনেট নির্ভর তাই ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এসে সেটাকে পুনস্থাপন করবে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সেবাখাতগুলোকে লকডাউন এর আয়তায় আনা সুচিন্তিত হবে না বলে আমরা মনে করি।’
