বিক্রি হচ্ছে জমিতেই
শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার হাওর উপজেলাগুলোতে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকেরা সরকারের দেওয়া ভর্তুকির কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটছেন, সঙ্গে শ্রমিকও রয়েছেন। তবে এখনো সব ধান পুরোপুরি পাকেনি, তার পরও কেটে জমিতেই বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। আর এক সপ্তাহ পর ধান কাটার ধুম লেগে যাবে। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এখন উচ্চফলনশীল (এইচওয়াইভি) ও বিআর-২৮ ধান কাটা হচ্ছে। জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা ও পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা (ধর্মপাশা উপজেলার কিছু অংশে নেত্রকোনার কৃষকদের বোরো জমি আছে) উপজেলার নিচু এলাকার বোরো ধান কাটা হচ্ছে। মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের কৃষক মকবুল মিয়া বলেন, ‘সব জমির ধান এখানো পুরোপুরি পাকেনি। এর পরও আমরা ধান কেটে জমিতেই বিক্রি করে দিচ্ছি। আগাম বন্যা বা শিলাবৃষ্টিতে যাতে ধানের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আগাম এই ধান কাটা।’ শনিবার সকালে মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোঁতা হাওরে দেখা গেছে, কৃষকেরা কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটছেন আর ক্রেতারা জমি থেকেই ধান কিনে নিচ্ছেন। ডিঙ্গাপোঁতা হাওরের কৃষক হোসেন মিয়া বলেন, তারা এখন আধা পাকা বোরো ধান ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন। আর কয়েক দিন পর দাম বাড়তে পারে বলেও কৃষকেরা আশা পোষণ করছেন।
এদিকে এবার আগাম বন্যায় যাতে হাওর উপজেলাগুলোর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ১২৪টি বাঁধ নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, গত দুই মাস টানা হাওরে থেকে বাঁধগুলো নির্মাণের কাজ তদারক করে শেষ করা হয়েছে। এখন আগাম বন্যা হলেও ধানের আর কোনো ক্ষতি হবে না। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, কৃষকেরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধান কাটেন, সে ব্যাপারে হাওরের উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো জেলায় একসঙ্গে বোরো ধান কাটার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে যখন শ্রমিক আসবেন, তখন ঐ শ্রমিকদের নেত্রকোনায় আনার জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।
ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত দিরাইয়ের কৃষক
দিরাই (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, দিরাই উপজেলার সর্বত্র কৃষকেরা এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কৃষিশ্রমিক, কোথাও আবার যান্ত্রিক হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। ধানা কাটা ও মাড়াই নিয়ে উপজেলায় এখন উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। এবার ধানের ভালো ফলনে কৃষকেরা বেশ খুশি। দিরাই পৌরসভার রাধানগর গ্রামের কৃষক সজল হক বলেন, এবার তিনি পাঁচ একর জমিতে আগাম জাতের হাইব্রিড ধান আবাদ করেছেন। তার তিন বিঘা জমিতে ধান কাটা শেষ হয়েছে। এতে তিনি বিঘাপ্রতি ১৮ মণ ধান পেয়েছেন। রাঙ্গামাটি গ্রামের কৃষক ক্ষীরদাস বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এমন ধান জমিতে হয়নি। এবারের ধান বিক্রি করে তিনি আগের দেনাও শোধ করতে পারবেন বলে জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মো. মনিরুজ্জামান জানান, এবার ইরি-বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ১৫০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর, উফশী ১৬ হাজার ৫৪০ হেক্টর এবং স্থানীয় ৫০০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৫০০ হেক্টরে আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বছর দিরাইয়ে পর্যাপ্ত কৃষিশ্রমিক রয়েছেন।
