ফসলি জমি রক্ষা করতে হবে

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২১, ২২:০০

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। বর্তমানে দেশে জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চামাংশ অর্জিত হয় কৃষি খাত থেকে। কৃষি এদেশের জনমানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার অন্যতম উত্স। এদেশের বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে কৃষিকে অবলম্বন করে। বর্তমানে কৃষির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফসলি জমির মাটি বিক্রি ও জমিতে পুকুর খনন। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। জমির ওপরের অংশ অর্থাত্ টপ সয়েল ইটভাটায় যাওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। মাটি বিক্রি করায় ফসলি জমির মাটির উপরিভাগের মাটিতে যে জিপসাম বা দস্তা থাকে তা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া মাটিতে যে জীবাণু থাকে এবং অনুজীবের কার্যাবলি আছে তা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে দিন দিন ফসলি জমির উত্পাদন ক্ষমতা কমছে। অন্যদিকে, ভূমি আইন উপেক্ষা করে  ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। পুকুর খননের মাটিও একইভাবে ইটভাটায় যায়। আর এসব পুকুরের উঁচু পাড়ের জন্য পাশের নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে করে চাষাবাদে ক্ষতি  হচ্ছে। মাটি বিক্রি ও জমি কেটে পুকুর খনন কৃষির জন্য হুমকিস্বরূপ। এর দ্বারা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই চিত্রটি গ্রামাঞ্চলে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এ সমস্যার সমাধানে চাই সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি। কৃষি খাত সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে ফসলি জমির মাটির রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

মো. রাজু আহমেদ

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা কলেজ