মির্জাপুরে দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে নদী ও খাল!

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৪

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বারই খাল ও বংশাই নদীর বিভিন্ন স্থান ভরাট ও দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেপরোয়া দখল ও দূষণের ফলে বিভিন্ন অংশে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে খাল ও নদীর অস্তিত্বই এখন সংকটের মুখে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রতিবেশ-পরিবেশ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের সরস্রোতা বারই খাল এবং বাজারের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবাহিত বংশাই ছোট নদী সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র বারই খাল ও বংশাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট কৌশলে ভরাট করে দখল করছে। গত ২০-২৫ বছরের ব্যবধানে এসব খাল ও নদীর আশপাশ ভরাট করে পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে চক্রটি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের পৌরসভার প্রফেসরপাড়া, বাইমহাটি, বাওয়ারকুমারজানি, মির্জাপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন, বাইমহাটি কেন্দ্রীয় গোরস্তান সংলগ্ন, বংশাই রোড, মির্জাপুর বাইপাস রোড, গাড়াইল, পুষ্টকামুরি, মির্জাপুর কাঁচা বাজারসহ অধিকাংশ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি দীর্ঘদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলে কৌশলে ভরাট করে দখল কর নিচ্ছে।

মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন (৫৬), মো. লিটন মিয়া (৪৫) ও বংশাই রোডের ব্যবসায়ী মো. সারওয়ার আলম (৩৫) এবং থানা রোডের সুজন মিয়াসহ (৪০) অন্তত ১০ জন ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদী ও খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে। ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। তারপর রাতারাতি ময়লা-আবর্জনার ওপর মাটি ফেলে দোকানপাট ও বাসা বাড়ি গড়ে তুলছেন। অনেকেই বহুতল পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

এ ব্যাপারে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা, টাঙ্গাইল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলে সরকারি খাল ও নদী কেউ দখল করতে পারবে না। এলাকার পক্ষে কেউ অভিযোগ দিলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে খাল-নদী উদ্ধারসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলে সরকারি খাল ও নদী দখল করলে এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ করলে স্থানীয় প্রশাসন এবং পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় অনেকেই খাল ও নদী ভরাট করছে। পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দখল হওয়া খাল ও নদী উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, সরকারি নদী ও খালসহ কোনো সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে এসব স্থাপনা দখলে রেখেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসব স্থাপনা (উচ্ছেদ করা হবে) ভেঙে ফেলা হবে। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় শহরের দুই পাশে সরকারি খাল খননসহ পুনঃউদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অচিরেই কার্যক্রম শুরু হবে।