গলাচিপায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে রাকিব (১৪) নামে এক শিশুকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় শিশুটির বাবা-মাকেও নির্যাতন করা হয়। পুরো ঘটনাটি নির্যাতনকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় শুক্রবার রাতে একটি মামলা হয়েছে। জড়িত থাকার অভিযোগে গলাচিপা থানা পুলিশ সোহেল মৃধা (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রামে।
রাকিবের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের পূলখালী গ্রামের জুয়েল মৃধার মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে শুক্রবার সকালে পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণপুর গ্রামের মকবুল গাজীর ছেলে রাকিব গাজীকে (১৪) ঘর থেকে ডেকে নেয়। এরপর রেজাউল মৃধার বাড়ির সামনে রাকিবকে গরু বাঁধার রশি দিয়ে আম গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে তিন ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে জুয়েল মৃধা, রাকিব মৃধা, সোহেল মৃধা, এমাদুল মৃধা ও জাকির মৃধাসহ অজ্ঞাত আরো দুই-তিন জন। রাকিবের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় তিন ঘণ্টা ধরে শারীরিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রাকিবের বাবা মকবুল গাজীকেও ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে তাকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ছেলের পাশে আনে এবং ছেলের সামনে তাকেও মারধর করে। এতে মকবুল গাজী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে স্ত্রী মোর্শেদা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্বামীকে উদ্ধার করতে চাইলে তাকেও নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনা দুর্বৃত্তরা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে।
নির্যাতনের শিকার শিশু রাকিব জানায়, ‘আমারে ঘর দিয়া রেজাউল মৃধা ডাইক্কা নেয়। রাস্তায় উঠলে আমার একটা মোবাইল পকেটে তার ঢুকাইয়া দেয়। এর পর রেজাউল মৃধার বাড়ি নিয়া বলে ‘চোর পাইছি’। এ সময় এমাদুল মৃধা, রাকিব মৃধা, সোহেল মৃধাসহ কয়েক জন মিল্লা (মিলে) একটি গরুর দড়ি দিয়া আম গাছের লগে বাইন্দা আমারে বাঁশের লাডি দিয়া পিডাইছে। হেরা লোয়ার রড দিয়া চোখ উডাইয়া দেওয়ার ভয় দেহাইছে।’
শিশুটির মা মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘আমি যহন থানায় মামলা করতে যাই তহন আমার বাড়িতে যাইয়া আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হুমকি দিয়ে আসে। আমি ভয়তে আছি।’
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা মোর্শেদা বেগম বাদী হয়ে জুয়েল মৃধা, রাকিব মৃধা ও সোহেল মৃধাকে প্রধান আসামি করে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত তিন জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সোহেল মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
