প্রিন্স ফিলিপের সম্মানে গতকাল শনিবার ব্রিটেনের বিভিন্ন জায়গা থেকে, জিব্রাল্টার এবং সমুদ্রে রণতরী থেকে সমন্বিত ও বর্ণাঢ্য তোপধ্বনি করা হয়েছে। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৭৩ বছরের স্বামী ডিউক অফ এডিনবরা ৯৯ বছর বয়সে শুক্রবার উইন্ডসর প্রাসাদে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের ইতিহাসে কোনো রাজা বা রানির এত দীর্ঘসময়ের জীবনসঙ্গী আর কেউ ছিলেন না। ব্রিটিশ সময় দুপুর ১২টা থেকে লন্ডন, স্কটল্যান্ডের এডিনবারা, ওয়েলসের কার্ডিফ এবং আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে প্রতি মিনিটে এক রাউন্ড করে ৪১ বার তোপধ্বনি করা হয় বলে জানায় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসির।
জানা গেছে, প্রিন্স ফিলিপের সম্মানে ব্রিটিশ সেনা সদস্যরা শনিবার সকালে উইন্ডসর ক্যাসেলের বাইরে স্যালুট দেন এবং দুই মিনিটের নীরবতা পালন করেন। সমুদ্রে রয়াল নেভির জাহাজগুলো থেকেও ডিউকের স্মরণে তোপধ্বনি করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রিন্স নেভাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে তিনি লর্ড হাই অ্যাডমিরাল পদে আসীন ছিলেন। এই তোপধ্বনির অনুষ্ঠান টিভি ও অনলাইনে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে মানুষজনকে ঘরে থেকে এই অনুষ্ঠান দেখতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এধরনের সম্মানসূচক তোপধ্বনি এর আগে করা হয়েছিল ১৯০১ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার সম্মানে এবং ১৯৬৫ সালে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের পর তার স্মরণে।
প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য হবে উইন্ডসরের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে, কিন্তু কবে সেটা হবে সেই তারিখ এখনো জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে না এবং সাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ শায়িত রাখা হবে না। রাজপরিবার সূত্র জানিয়েছে, প্রিন্স ফিলিপ অনুরোধ করে গেছেন যে, তার শেষকৃত্য যেন আড়ম্বর সহকারে না করা হয় এবং জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত রাখা না হয়। তার পরিবর্তে রাজ পরিবারের রীতি অনুযায়ী এবং প্রিন্স ফিলিপের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী শেষকৃত্য না হওয়া পর্যন্ত তার মরদেহ উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে শায়িত রাখা হবে। বাকিংহাম রাজপ্রাসাদের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
ডিউকের শেষকৃত্য হওয়ার পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সব সরকারি ভবনে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টার গির্জায় বিশাল ঘণ্টায় প্রতি ৬০ সেকেন্ড পর পর ৯৯ বার ঘণ্টাধ্বনি করা হয়েছে শুক্রবার—ডিউকের জীবনের প্রতিটি বছরের স্মরণে। বাকিংহাম প্রাসাদের ফটকে ফুল রেখে প্রিন্স ফিলিপকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাধারণ মানুষ। বহু মানুষ বাকিংহাম প্রাসাদের ফটকে এবং উইন্ডসর প্রাসাদের বাইরে ফুল রেখে প্রিন্স ফিলিপের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তবে সরকার মহামারির কারণে মানুষজনকে কোথাও জড়ো হতে বা পুষ্পস্তবক না দিতে অনুরোধ করেছে। রাজপরিবারের পক্ষ থেকেও জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, ফুল দেওয়ার বদলে ডিউকের স্মরণে দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সেই অর্থ দান করার জন্য।
প্রিন্স ফিলিপ শারীরিক অসুস্থতার কারণে লন্ডনের কিং এডওয়ার্ড হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি। পরে লন্ডনে হূদরোগের জন্য বিশেষ হাসপাতাল সেন্ট বার্থলোমিউ হাসপাতালে তার পুরনো হূদযন্ত্রের সমস্যার কারণে সফল অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। এক মাস চিকিত্সার পর ১৬ মার্চ তিনি উইন্ডসর ক্যাসেলে ফিরে যান। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শুক্রবার সকালে।
