মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জান্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিদ্রোহীদের হামলায় ১০ পুলিশ নিহত হয়েছে। অভুত্থানবিরোধী আন্দোলনে সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জাতিগত সশস্ত্র বাহিনীগুলোর একটি জোট। দেশটির পূর্বাঞ্চলে শান রাজ্যের নউংমনে শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ঐ হামলা হয়। জান্তাবিরোধী এ বাহিনীতে আরাকান আর্মি, তা আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মিও আছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উত্খাতের পর থেকে দেশটির সর্বস্তরের জনতা জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। এসব বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে ৬ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যেই দেশটির প্রায় এক ডজন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। অভ্যুত্থানে উত্খাত হওয়া সরকারের যেসব আইনপ্রণেতা আত্মগোপনে গেছেন তারা একটি ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঐক্যে দেশটির সংখ্যালঘু জাতিসত্তার গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও রয়েছেন। কীভাবে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে তারা অনলাইনে সংলাপও চালাচ্ছেন।
১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড: এদিকে, মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের একটি জেলায় সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেনের সহযোগীকে হত্যায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন মায়াবতী টেলিভিশন এ খবর দিয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৭ জনের অনুপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা হয়। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর এটাই এ ধরনের প্রথম রায়।
